ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন ঘেঁষা উত্তর বেদকাশী ও কয়রা সদর ইউনিয়নের মোহনায় অবস্থিত 'কয়রা বেদকাশী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি' এখন শুধুই স্মৃতি। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তালাবদ্ধ থাকায় এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিত্যক্ত ভবনটি এখন গবাদিপশু আর আগাছার দখলে, অথচ এটি হওয়ার কথা ছিল হাজারো মানুষের শেষ ভরসাস্থল।
উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারটি ভাঙা। ভেতরে মানুষের পদচারণার বদলে জমেছে মাকড়সার জাল আর ধুলোর আস্তরণ। মেঝের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মূল্যবান সরঞ্জাম, খাতাপত্র এবং ওষুধ রাখার পাত্র। ভবনটির জীর্ণ দশা দেখে একে এখন স্থানীয়রা ‘ভূতের বাড়ি’ বলে ডাকছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে শশাঙ্ক শেখর রায় নামের একজন ফার্মাসিস্ট কোনোমতে একটি চেয়ার-টেবিল নিয়ে এখানে সেবা দিতেন। কিন্তু ২০২৪ সালে তাকে যশোরে বদলি করার পর এখানে নতুন কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে গত দেড় বছর ধরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
কয়রা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছাঃ রুমানা খানম আক্ষেপ করে বলেন, "জন্মের পর থেকেই দেহি ক্লিনিকটি ভাঙাচোরা। তাও আগে একটু জ্বর-মাথা ব্যথার ওষুধ পেতাম। এখন গত বছর থেইক্যা তালা ঝুইলতাছে। আমাগো মতো গরিব মাইনষের তো শহরে যাওয়ার টাকা নাই, আমাগো দেখার কেউ নাই।"
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সরদার আবু হাসান বলেন, "এখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেও চিকিৎসক সংকট। এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অকার্যকর থাকায় তিন ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত জনবল নিয়োগ ও নতুন ভবনের দাবি জানাই।"
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, "ভবন সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ এইচইডি (Health Engineering Department)-তে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদনও পাওয়া গেছে। তবে নতুন বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।"
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ