ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে নবগঠিত বিএনপি সরকার।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ ) রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী এই প্রকল্পের প্রধান দিকগুলো হলো:
নগদ সহায়তা: কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা পাবে।
নারীর ক্ষমতায়ন: কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর হাতে বা তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে।
স্মার্ট কার্ড ও খাদ্য সুবিধা: এটি একটি ডিজিটাল ডেটাবেজভিত্তিক স্মার্টকার্ড। এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কেনা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকিও যুক্ত হবে।
স্বচ্ছতা: সুবিধাভোগী নির্বাচনে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে এবং তথ্য যাচাই করা হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ডেটাবেজের মাধ্যমে।
শুরুতে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডের প্রায় ৬,৫০০ পরিবারের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ঢাকার কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক ও মিরপুরের বস্তি এলাকা।
রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন।
সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোর, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।
যাদের আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার কম এবং যারা ভূমিহীন, গৃহহীন বা প্রতিবন্ধী—তারা এই কার্ডের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, গাড়ি বা এসির মালিক এবং বড় ব্যবসায়ীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশ যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে ‘সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্র’ (Universal Social ID Card) হিসেবে রূপান্তরের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা গেলে এই প্রকল্প গ্রামীণ ও শহরতলীর প্রান্তিক নারীদের স্বনির্ভরতা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে মাইলফলক হয়ে উঠবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ