৭ দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বাসস্থানে হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার বিচারের দাবিতে সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।
রোববার (১০ মে) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নিয়মিতভাবে বাংলাদেশিদের হত্যা করছে এবং সেগুলোকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০০০ বাংলাদেশিকে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
জাবের আরও দাবি করেন, ভারত শুধু সীমান্ত হত্যায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কতটুকু সামরিক শক্তি অর্জন করবে তা ভারত নির্ধারণ করে দিচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
উত্থাপিত ৭ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য অংশ: ১. ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো। ২. ভারতকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘ ও ওআইসিতে বিষয়টি উত্থাপন করা। ৩. সীমান্তে প্রতিটি হত্যার বিপরীতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা। ৪. অপরাধী বিএসএফ কর্মকর্তাদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া। ৫. সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আদানিসহ সব ধরনের ট্রানজিট ও বন্দর সুবিধা স্থগিত রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয় এবং সীমান্তে আগ্রাসন বন্ধ না হয়, তবে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।