হাম না চিকেনপক্স, বুঝবেন যেভাবে
লাইফস্টাইল প্রতিবেদক:বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে জলবায়ুর তারতম্যের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কন্ডিশন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বাতাসে ভর করে ‘রুবেওলা’ ও ‘ভেরিসেলা-জোস্টার’ নামক দুটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাস শিশুদের দ্রুত আক্রান্ত করে। এর মধ্যে প্রথমটি তৈরি করে হাম (Measles) এবং দ্বিতীয়টি জলবসন্ত বা চিকেনপক্স (Chickenpox)। চিকিৎসকদের মতে, হাম এতটাই সংক্রামক যে কোনো আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসা ১০ জন অসুরক্ষিত বা টিকাহীন মানুষের মধ্যে ৯ জনই এই কন্ডিশনে সংক্রমিত হতে পারেন। তাই জটিলতা এড়াতে এই দুই রোগের ক্লিনিক্যাল তফাত জানা অত্যন্ত জরুরি।
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সচেতনতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও লাইফস্টাইল খতিয়ান’ এবং ‘পাবলিক হেলথ প্রটেকশন, ভাইরাল ইনফেকশন ট্র্যাকিং ও নিউট্রিশনাল গাইডলাইন্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে হাম ও পক্সের তুলনামূলক সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মেডিকেল ডায়াগনস্টিক খতিয়ান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত গাইডলাইন অনুযায়ী, রোগ দুটিকে ফুসকুড়ির ধরন ও প্রাথমিক কিছু বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে আলাদা করা যায়:
হামে আক্রান্ত হলে শিশুর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তীব্র উচ্চ জ্বর হতে পারে। এর সাথে শুষ্ক কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়ার কন্ডিশন তৈরি হয়। জ্বর শুরুর ২-৩ দিন পর এর প্রধান বিশেষত্ব হিসেবে গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে দাগ বা ‘কোপলিক স্পট’ (Koplik's Spots) দেখা যায়। এর পরেই মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু করে লালচে বা বাদামি রঙের চ্যাপ্টা ফুসকুড়ি ধাপে ধাপে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
পক্সের ক্ষেত্রে সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি জ্বর ও শরীর ব্যথার ১-২ দিনের মধ্যেই সারা শরীরে লালচে দানা ওঠে। তবে এগুলো হামের মতো চ্যাপ্টা দাগ নয়, বরং খুব দ্রুত পানি বা পুঁজে ভর্তি টসটসে ফোঁস্কায় পরিণত হয় এবং এতে মারাত্মক চুলকানি থাকে। পক্সের প্রধান মেথডলজি হলো, রোগীর শরীরে একই সময়ে কিছু নতুন ফোঁস্কা, কিছু পানিভর্তি দানা এবং কিছু শুকিয়ে যাওয়া খোসা—উভয় রূপই একসাথে দেখা যায়।
প্রকাশিত স্বাস্থ্য খতিয়ানে দেখা গেছে, ত্বকে দানা বা র্যাশ উঠলেই তা কেবল হাম বা পক্স নাও হতে পারে। এই সময়ে জার্মান মিজলস বা রুবেলা হলে কানের পেছনের লসিকাগ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। আবার ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ’ হলে হাতের তালু, পায়ের পাতা ও মুখের ভেতর আলসারের মতো ঘা হয়। অন্যদিকে ডেঙ্গু জ্বরের ৩-৪ দিনেও শরীরে লালচে দানা দেখা দিতে পারে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক কন্ডিশন হলো ‘মেনিনগোকক্কেমিয়া’ নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেখানে তীব্র জ্বরের সাথে ত্বকে বেগুনি বা বাদামি ছোপ দেখা যায় এবং দ্রুত আইনি ট্র্যাকে অ্যান্টিবায়োটিক না দিলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সাধারণত সঠিক যত্নে এই রোগগুলো ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে অবহেলা করলে হামের কারণে কান পাকা, তীব্র ডায়রিয়া, অন্ধত্ব কিংবা নিউমোনিয়ার মতো মেগা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা মেথড অনুযায়ী, উভয় রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ নেই। রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেশন কন্ডিশনে রাখতে হবে এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর তরল, ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। জ্বর ও ব্যথার জন্য কেবল প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যাবে। ভাইরাল ইনফেকশনে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ভুলেও অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না, যা লিভার ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ‘রে’স সিনড্রোম’ (Reye's Syndrome) রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। হামের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দুই দিন উচ্চমাত্রার ‘ভিটামিন এ’ সম্পূরক বা ক্যাপসুল খাওয়ানো আরোগ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি আইনি অংশ। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড অবিরত বমি কিংবা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কালবিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
জান্নাত সকালবেলা
|