টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শেষমেশ দুই মামলা দায়ের
বিনোদন প্রতিবেদক:টেলিপাড়া থেকে শুরু করে ওপার বাংলার রূপালি পর্দা কাঁপানো ওড়িশি ও টলিউড সুন্দরী মিমি চক্রবর্তীকে নিয়ে টলিউড প্রাঙ্গণে এক নতুন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি কন্ডিশন তৈরি হয়েছে। বনগাঁর একটি ক্লাবের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দীর্ঘ দিনের বিতর্ক শেষমেশ আদালতের দোরগোড়ায় গিয়ে ঠেকেছে। অভিনেত্রীর করা পূর্বের একটি মামলার জেরে গ্রেফতার হওয়া ওই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী এবার জামিনে মুক্ত হয়ে পাল্টা বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানহানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে বনগাঁ আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল, পপ কালচার ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘শোবিজ গসিপ, সেলিব্রিটি লাইফ ট্র্যাকিং ও জুডিশিয়াল কনফ্লিক্ট মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই মামলার ভেতরের সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
শোবিজ জগতের অফিশিয়াল লিগ্যাল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, এই মেগা বিরোধের সূত্রপাত ঘটেছিল পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে অবস্থিত ‘যুবক সংঘ’ ক্লাবের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ সেলিব্রিটি অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তবে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঝড় ওঠে।
মিমি চক্রবর্তীর আইনি উইংয়ের পূর্বের বয়ান অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী ও ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের মাধ্যমে তিনি সেখানে চরম হেনস্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। এই মেথডলজি তিনি পরবর্তীতে তাঁর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ করেন। এরপর মিমি বনগাঁ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে দ্রুত গ্রেফতার করে। একই কন্ডিশনে মিমি বনগাঁ মহকুমা আদালতেও হাজির হয়ে নিজের গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, যুবক সংঘের ক্লাব সদস্যরা শুরু থেকেই মিমির এই হেনস্তার দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট গেমপ্ল্যান বলে দাবি করে আসছিলেন। ক্লাবের অফিশিয়াল খতিয়ান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে মঞ্চে এসেছিলেন মিমি। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের দেওয়া অনুষ্ঠান পরিচালনার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় মঞ্চের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে মাইক ছাড়তে বলা হয়। এই সাধারণ মেথডকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে তনয় শাস্ত্রী বনগাঁ থানায় পাল্টা ডায়েরি করেন এবং আজ সোমবার (১৫ জুন) আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিমির বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ঠুকে দেন। তনয় শাস্ত্রীর পক্ষে এই হাইভোল্টেজ মামলাটি লড়ছেন কলকাতার নামী আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। আদালতে জমা দেওয়া আইনি নথির কন্ডিশন অনুযায়ী, মিমি চক্রবর্তী জনসমক্ষে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন, যার কারণে ২০ লাখ টাকার মানহানি দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, চুক্তিভঙ্গ করে সম্পূর্ণ পারফর্ম না করার কারণে মিমির নেওয়া অগ্রিম ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার আইনি তাগিদ দেওয়া হয়েছে এই মামলায়। এই মামলার ফলে ওপার বাংলার শোবিজে নতুন এক আইনি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|