খুলনা-৬ আসনের জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে ত্রাণের টাকা লুটের অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ
খুলনা-৬ আসনের জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে ত্রাণের টাকা লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আসা গরিব ও দুস্থ মানুষের সহায়তার টাকা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। দুস্থদের বঞ্চিত করে অনেকটা গোপনেই এই বরাদ্দের টাকা দেওয়া হয়েছে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস), আপন ভাগনে ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের। 

সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমপি আবুল কালাম আজাদের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় ২০১ জনের একটি তালিকা তৈরি করে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এই গোপন তালিকাটি ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।

ফাঁস হওয়া তালিকায় দেখা গেছে, সুবিধাভোগীদের তালিকার ১ নম্বরেই রয়েছে এমপির আপন ভাগনে আহসান হাবিবের নাম। ৩ নম্বরে আছেন এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আবু ওবাইদা। এছাড়া তালিকার ৬ নম্বরে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আসমাতুল্যাহ এবং ১০ নম্বরে কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল ইসলামের নাম রয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ দুস্থদের ডেকে ২ হাজার টাকা করে দিয়ে বলা হয়েছে এটি ‘এমপির ঈদের খরচ’। অথচ এমপির এপিএস, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা বরাদ্দ থেকে ৪ হাজার টাকা করে পকেটে পুরেছেন।

তালিকাভুক্তদের সচ্ছলতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন শিবির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম প্রায় ১০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেন এবং পারিবারিকভাবে অত্যন্ত ধনী। তালিকায় ১৫২ নম্বরে তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম সরদারের নামও রয়েছে। অন্যদিকে এমপির এপিএস আবু ওবাইদার স্ত্রী একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবার এলাকায় যথেষ্ট সম্পদশালী হিসেবে পরিচিত।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে এমপির এপিএস আবু ওবাইদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ তালিকা তো আপনাদের পাওয়ার কথা নয়। তালিকা গোপন থাকার কথা ছিল।’ পরে বরাদ্দের টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান দাবি করেন, তালিকায় বেশিরভাগই গরিব মানুষের নাম রয়েছে, কিছু দলীয় দরিদ্র লোকও থাকতে পারে। তবে এপিএসের নাম কীভাবে তালিকায় এলো তা তিনি জানেন না বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবুল বলেন, ‘এমপি সাহেব গরিব মানুষের হক নষ্ট করে দলীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা দিয়েছেন। জেনে-বুঝেই এই অন্যায়টি করা হয়েছে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, ‘ত্রাণ তহবিলের টাকা যাদের পাওয়ার কথা, তাদের বঞ্চিত করে সচ্ছল আত্মীয়দের দেওয়া অন্যায়। নেতাদের স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।’

কয়রার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা হতদরিদ্র ও দুস্থদের পাওয়ার কথা। তবে উৎসব উপলক্ষে বিশেষ বরাদ্দের তালিকা সংসদ সদস্যরা সাধারণত নিজেদের লোক দিয়েই করিয়ে থাকেন।

মন্তব্য করুন