নবম পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট, চলতি মাসেই মন্ত্রিসভায় ওঠার সম্ভাবনা

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
নবম পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট, চলতি মাসেই মন্ত্রিসভায় ওঠার সম্ভাবনা
নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর প্রস্তাবনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ভবন।

দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় নতুন করে গতি এসেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের টেবিলে রয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক নীতিগত সকল প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাজ ঠিকঠাক এগোলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদিত হলে পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উৎস সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন স্কেল জারি করা হয়নি। জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করেছিল।

কমিশনের সেই সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বড় প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়। যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেলের সুপারিশগুলো পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই মন্ত্রিসভা থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর বিশাল আর্থিক প্রভাব। অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এই পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তা সত্ত্বেও আইএমএফের পরামর্শে পুরোপুরি কাজ বন্ধ না রেখে বা বাস্তবায়ন স্থগিত না করে, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একবারে চালুর বদলে পর্যায়ক্রমে নবম পে স্কেল কার্যকর করার উপায় খুঁজছে সরকার।

এদিকে প্রশাসনিক পর্যায়ে মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকের দিকে এখন তীব্র আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন দেশের কয়েক লাখ সরকারি চাকরিজীবী। অনুমোদনের পর কবে নাগাদ প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কীভাবে এটি কার্যকর হবে—তা এখন শুধু মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

মন্তব্য করুন