আজ বিশ্ব ট্রমা দিবস

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ণ
আজ বিশ্ব ট্রমা দিবস

জীবনযাপন ডেস্কআজ ১৭ অক্টোবর, ‘বিশ্ব ট্রমা দিবস’। দুর্ঘটনা, সহিংসতা ও নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ট্রমা বা আঘাতজনিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রত্যয়ে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়। ট্রমা কেবল শরীরের কোনো গুরুতর রক্তক্ষরণ বা আঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোনো ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার অভিঘাত মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ট্রমা দিবস পালিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন কারণে প্রাণহানি ও গুরুতর শারীরিক জখমের হার কমানো এবং প্রাক-হাসপাতাল জরুরি চিকিৎসার (Pre-hospital care) গুরুত্ব মানুষের মাঝে তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রমা মূলত দুই ধরনের হতে পারে—শারীরিক ট্রমা এবং মানসিক ট্রমা।শারীরিক ট্রমা: কোনো সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পতন, অগ্নিকাণ্ড, সহিংসতা কিংবা অন্য কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় মানবদেহ গুরুতরভাবে জখম হলে তাকে শারীরিক ট্রমা বলা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রথম মুহূর্তেই চিকিৎসাগত সহায়তা না পেলে জীবনের ঝুঁকি ও জটিলতা বহুলাংশে বেড়ে যায়।মানসিক ট্রমা: কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সহিংসতা, নির্যাতন কিংবা কাছের মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া বা তা প্রত্যক্ষ করার পর মানুষের মনে যে গভীর প্রভাব পড়ে, তাকে মানসিক ট্রমা বলা হয়। এ ধরনের অভিজ্ঞতার পর স্বাভাবিকভাবেই ভীতি, উদ্বেগ বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ভয়াবহ কোনো ঘটনার পর মানুষের মানসিক প্রতিক্রিয়া একেক রকম হয়। কারো ক্ষেত্রে অস্বস্তি দ্রুত কেটে গেলেও অনেকের জন্য তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। মানসিক ট্রমার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হলো:বারবার অতীতের সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি মনে পড়া বা দুঃস্বপ্ন দেখা।নিরাপদ পরিবেশে থেকেও সার্বক্ষণিক বিপদ বা আশঙ্কার অনুভূতির সৃষ্টি হওয়া।যে স্থান বা পরিস্থিতি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, তা সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা।ঘুমের তীব্র সমস্যা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।খিটখিটে মেজাজ, অপরাধবোধ কিংবা পরিবার-সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা।দৈনন্দিন কাজে কিংবা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই যে তাকে ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ (PTSD) বা মানসিক রোগ বলা যাবে, তা নয়। তবে লক্ষণগুলো দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

যেকোনো গুরুতর দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর যদি অতিরিক্ত রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা বা তীব্র শারীরিক বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বাহ্যিকভাবে ক্ষত ছোট মনে হলেও শরীরের ভেতরে অভ্যন্তরীণ ক্ষতি বা রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা চিকিৎসকের নিবিড় মূল্যায়নে নিরাময় সম্ভব।

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা ট্রমার শিকার কোনো ব্যক্তিকে দোষারোপ না করে তার কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে পরিবার, বিশ্বস্ত বন্ধু বা প্রশিক্ষित পেশাদার কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে হবে।

বিশ্ব ট্রমা দিবসের মূল বার্তা হলো—দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, সময়মতো জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শারীরিক ক্ষতের পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও পুনর্বাসনকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া।