নেতানিয়াহুকে হটাতে একজোট ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতা
অনলাইন ডেস্ক: ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দেশটির প্রভাবশালী পাঁচ বিরোধী নেতা। আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বিত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের বাসভবনে এক গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পাঁচ নেতা একটি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই জোটে অংশ নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং চরম ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যান। যৌথভাবে একটি ‘দায়িত্বশীল ইহুদিবাদী সরকার’ গঠন এবং রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইসরায়েলকে পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
১. গাদি আইজেনকোট (ইয়াশার): সাবেক এই সেনাপ্রধান অতি-রক্ষণশীলদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ব্যর্থতার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের পক্ষপাতী। তবে আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতি-নির্ভরতার সমালোচনা করলেও যুদ্ধ নীতির মূল ধারায় তিনি নেতানিয়াহুর অনুসারী।
২. নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ (বেয়াখাদ): যৌথ জোট গড়ে তোলা এই দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেবল ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদিবাদী দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনে আগ্রহী। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক বেনেট দোহায় হামাস নেতাদের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার প্রকাশ্য প্রশংসা করেছিলেন।
৩. আভিগদর লিবারম্যান (ইসরায়েল বেইতেনু): কট্টর অভিবাসী ও ডানপন্থী নীতির প্রতিনিধি লিবারম্যান নেতানিয়াহুর ব্যক্তিভিত্তিক শাসনের বিরোধী হলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর অবস্থানের দিক থেকে তিনি সবচেয়ে আগ্রাসী।
৪. ইয়ার গোলান (ডেমোক্র্যাটস): জোটের একমাত্র মধ্য-বামপন্থী নেতা, যিনি গাজায় বেসামরিক শিশু হতাহত ও অনাহার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা দেখালেও নির্বাচনে আরব নেতাদের অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়ে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর তীব্র বিরোধিতা এবং অতি-রক্ষণশীলদের সামরিক ছাড়ের বিরোধিতার ইস্যুতে তারা একজোট হলেও মৌলিক নীতির প্রশ্নে এই পাঁচ নেতার অধিকাংশের অবস্থান নেতানিয়াহুর প্রায় কাছাকাছি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার অধিকার বা সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। ফলে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কার্যকর সরকার গঠনে কতখানি ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় থেকে যাচ্ছে।