বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরবৃদ্ধি
অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় এবং এর জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবারের আন্তর্জাতিক বাজার সমাপনীতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ৩.৯৪ ডলার বা ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯.৮৬ ডলারে স্থির হয়েছে। একইভাবে, মার্কিন বাজারের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৩.৪৪ ডলার বা ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। পুরো সপ্তাহজুড়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০.৪ শতাংশ এবং ব্রেন্টের দাম প্রায় ৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
বিশ্বের জ্বালানি চাহিদার বিশাল একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উৎপাদন ও রফতানি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সৌদি আরব বা অন্যান্য প্রধান উৎপাদকের তেল ক্ষেত্র ও শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে অবস্থান করলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। এর ফলে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লজিস্টিকস ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমানে তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক কূটনীতি এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের খবরের ওপর নির্ভর করছে।