মার্কিন মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরানের জ্বালানি রফতানি অব্যাহত
অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাত্মক চাপ ও পারস্য উপসাগরে কড়া নৌ অবরোধের মধ্যেও নিজেদের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমানের জ্বালানি (Jet Fuel) আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মার্কিন এই অবরোধের বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা পার্স টুডে রয়টার্সের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’ (UANI) সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্ত এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী বিভিন্ন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ওপর বিস্তারিত ট্র্যাকিং পরিচালনা করে।
গবেষণা ও উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের তরলীকৃত গ্যাসবাহী (LPG) অন্তত আটটি বড় আকারের ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এড়িয়ে ওমান উপসাগর অতিক্রম করে নিরাপদ গন্তব্যে চলে যেতে পেরেছে।
একই সঙ্গে সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ‘সিনম্যাক্স’ (SynMax)-এর উপগ্রহ চিত্র ও প্রসেস করা ডেটায় দেখা যায়, বিমানে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিবাহী ইরানের একটি ট্যাংকার গত সেপ্টেম্বর মাসে সফলভাবে এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে পৌঁছেছে এবং পণ্য খালাস করেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই সংক্রান্ত তথ্যের জবাবে জোর দাবি করেছে যে, সমুদ্রসীমায় তাদের নৌ অবরোধ শতভাগ কার্যকর রয়েছে এবং কোনো বেআইনি রফতানি হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য রয়টার্স প্রকাশ করার পর মার্কিন অবরোধের সার্বিক সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রথম সর্বাত্মক নৌ অবরোধ জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ঐক্যমত গঠিত হলে গত জুন মাসে সাময়িকভাবে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে উক্ত সমঝোতা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে গত ১৪ জুলাই থেকে আবারও ইরানের সামুদ্রিক সীমানায় মার্কিন নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছিল।