খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে যা ঘটে: জানুন সঠিক নিয়ম

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ণ
খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে যা ঘটে: জানুন সঠিক নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক:চলছে লিচুর ভরা মৌসুম। জ্যৈষ্ঠের শেষে বাজার এখন সবুজ পাতার মাঝে লাল টুকটুকে পাকা লিচুর হাসিতে মুখর। গরমের এই সময়ে তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে রসে টইটম্বুর লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অতুলনীয়। এটি একদিকে যেমন শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, অন্যদিকে দ্রুত এনার্জি বা শক্তি জোগায়। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই চমৎকার ফলটিই আপনার বা আপনার সন্তানের জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি খাওয়ার সঠিক মেথড বা নিয়ম আপনার জানা না থাকে। বিশেষ করে খালি পেটে লিচু খাওয়া শরীরে এমন কিছু কন্ডিশন তৈরি করে, যা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘পুষ্টি ও ডায়েট, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও মেডিকেল সায়েন্স খতিয়ান’ এবং ‘গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, পেডিয়াট্রিক হেলথ ও ফুড টক্সিকোলজি উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে খালি পেটে লিচু খাওয়ার মারাত্মক রাসায়নিক ক্ষতিকর দিক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পরামর্শ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

মেডিকেল সায়েন্স ও ফুড টক্সিকোলজির ল্যাবরেটরি খতিয়ান অনুযায়ী, লিচু পুষ্টিকর ফল হলেও এতে প্রাকৃতিকভাবেই ‘হাইপোগ্লাইসিন এ’ (Hypoglycin A) এবং ‘মিথিলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লাইসিন’ বা এমসিপিজি (MCPG) নামক দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন থাকে। বিশেষ করে কাঁচা, আধা-পাকা বা অপরিপক্ব লিচুতে এই এমসিপিজি টক্সিনের মাত্রা অনেক গুণ বেশি থাকে।

মানুষ যখন দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর বা সকালে খালি পেটে এই লিচু গ্রহণ করে, তখন এই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানগুলো মানবদেহের লিভারে ফ্যাটি অ্যাসিড অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় তীব্র বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে লিভার রক্তে নতুন করে গ্লুকোজ বা শর্করা তৈরি করতে পারে না। পরিপাকতন্ত্রে এই মেথড বিঘ্নিত হওয়ার কারণে হঠাৎ করেই শরীরের ব্লাড সুগার লেভেল বা রক্তের শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই মারাত্মক শারীরিক কন্ডিশনকে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ (Hypoglycemia) বলা হয়।

এই মারাত্মক বিষাক্ত উপাদানগুলো অনেক সময় রক্তের মাধ্যমে সরাসরি মানব মস্তিস্কে আঘাত হানে এবং মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। এই বিষয়ে প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. অভিনন্দন মিশ্র লিচুর ক্ষতিকর কন্ডিশন ব্যাখ্যা করে বিশেষ খতিয়ান দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশেষ করে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে বা যাদের শরীরে গ্লুকোজের রিজার্ভ কম, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে লিচু খাওয়া একদমই ঠিক নয়। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর লিচু খেলে রক্তে শর্করা কমে গিয়ে চরম দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া, তীব্র খিঁচুনি এমনকি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটতে পারে। এই কন্ডিশনটিই মূলত ‘এনসেফলাইটিস’ বা ‘ব্রেন ফিভার’ (মস্তিষ্ক জ্বর)-এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।”

সুস্থ থাকতে লিচু খাওয়ার সঠিক আইনি ও পুষ্টি মেথড

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি ডায়েট চার্ট থেকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে লিচু খাওয়ার সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ কন্ডিশন ঠিক রাখতে নিচের পুষ্টি মেথডগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে:

 সকালের নাস্তা বা ভারী কোনো খাবার খাওয়ার পরেই কেবল লিচু খাওয়া নিরাপদ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর কখনো প্রথম খাদ্য হিসেবে লিচু মুখে দেওয়া যাবে না। গাছ থেকে পাড়ার পর লিচুর গায়ে বিভিন্ন কীটনাশক বা পোকা-মাকড়ের লালা লেগে থাকতে পারে। তাই খাওয়ার আগে লিচু ভালো করে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে হবে। অতি পুষ্টিকর বা সুস্বাদু হলেও একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণ লিচু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮টির বেশি লিচু না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো মেথড।যাদের লিভারের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, যারা অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন কিংবা যারা ডায়াবেটিসের কড়া ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ নিয়ে তবেই লিচুর পরিমাপ নির্ধারণ করা উচিত।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন