তালতলীতে ব্যারাকে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তালতলীতে ব্যারাকে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে চিরকুট লিখে থানার ব্যারাকে মো. ফারুক হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ সদস্য বিষাক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। 

আজ রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মৃত ফারুক হোসেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের রতন আলী গাজীর ছেলে। তিনি তালতলী থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন শনিবার রাতের ডিউটি শেষ করে আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ব্যারাকে ফিরে যান। সেখানে নিজের কক্ষে তিনি বিষাক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট (কীটনাশক) সেবন করেন। সকাল ৯টার দিকে তিনি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা বিষয়টি টের পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যারাকে তাঁর কক্ষ থেকে একটি আবেগঘন চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে ফারুক হোসেন লিখে গেছেন— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি। অযথা কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। আর আমার অনুরোধ বাড়িতে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। আমার ডেথ সার্টিফিকেটের সাথে পাঠাইয়া দিবেন। বাড়ি জানালে কোথায় তারা আসবে নিশ্চিত করে জানাবেন, যাহাতে তারা হয়রানি না হয় এবং মহিলারা যাতে না আসে দয়া করে বলে দিবেন।”

তিনি চিরকুটে আরও উল্লেখ করেন— “আমার লাশ পুরান বাড়িতে দাফন করবেন। আমার স্ত্রীকে যেন আগে না জানায় তাহলে সে মারা যাবে।” নিজের শেষ চিঠির নিচে যোগাযোগের জন্য তিনি তাঁর ভাই ও জামাতার মোবাইল নম্বর লিখে রেখে গেছেন।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. সোহাগ বলেন, “প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বিষাক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন। অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।”

আমতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতের ডিউটি শেষ করে সকালের দিকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিরকুটে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ লেখা নেই, কেবল পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে কিছু নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন