৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়েও বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৫
ক্রীড়া প্রতিবেদক:ব্যাটিংয়ের শুরুতেই মড়ক লাগা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি হোম সিরিজের শেষ ম্যাচেও সেই চেনা টপঅর্ডার ব্যর্থতার মেথডলজি বজায় রাখল টিম বাংলাদেশ। মিরপুরের চেনা উইকেটে মাত্র ৬১ রানের মধ্যে দলের নির্ভরযোগ্য ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে যখন বড় ধরণের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চরম কন্ডিশন তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মিডলঅর্ডারের এই তিন কাণ্ডারির দায়িত্বশীল ব্যাটিং নৈপুণ্যে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে লড়াকু স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ।
আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট, বিসিবি ও ওডিআই সিরিজ খতিয়ান’ এবং ‘ম্যাচ অ্যানালাইসিস, পিচ কন্ডিশন ও প্লেয়ারস পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে প্রথম ইনিংসের নাটকীয় সমীকরণ ও গেমপ্ল্যান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ কন্ডিশন বিবেচনা করে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচে একাদশে একাধিক বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা। তবে ওপেনিং জুটির শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামাফিক হয়নি। প্রথম ওভারের দলীয় ২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই প্রথম ওভারে উইকেট হারানোর এক বাজে রেকর্ড খতিয়ানভুক্ত করল বাংলাদেশ।
সৌম্যের বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসেন চোটাক্রান্ত মিরাজের পরিবর্তে দলের অধিনায়কত্ব পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাথে নিয়ে অজি পেসারদের শুরুর আগ্রাসন বেশ ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছিলেন শান্ত। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে স্কোরবোর্ডে ৫১ রান যোগ হতেই ছন্দপতন ঘটে। অজি স্পিনার ম্যাট রেনশোর একটি স্কিড করা বলে অনভিজ্ঞ স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তানজিদ তামিম। পার্টনারকে হারিয়ে উইকেটে থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক শান্তও। তামিমের দেখানো ভুল মেথড অনুসরণ করে সুইপ শট খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৪ রানে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। ফলে মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম কন্ডিশনে পড়ে দল।
দলের এমন কঠিন বিপর্যয় ও খাদের কিনারা থেকে প্রতিবারই যিনি ত্রাতা হয়ে হাল ধরেন, আজ যেন মিরপুরে সেই পুরোনো মেথডেই ধরা দিলেন লিটন দাস। উইকেট কামড়ে ধরে যুব তারকা তাওহীদ হৃদয়কে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে অজি বোলারদের লাইন-লেন্থকে সমীহ করে সাবধানী ব্যাটিং করলেও, উইকেটে সেট হওয়ার সাথে সাথে চার-ছক্কার গতি বাড়াতে থাকেন লিটন। হৃদয়ের সাথে তাঁর অপরাজিত ৯২ রানের এক অনবদ্য পার্টনারশিপ যখন বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন।
ব্যক্তিগত ৪৮ রানের মাথায় শট নিতে গিয়ে ডান পায়ের পেশিতে তীব্র টান (Cramp) পড়ায় তীব্র যন্ত্রণায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ফিজিওর প্রাথমিক চিকিৎসার পরও কন্ডিশন স্বাভাবিক না হওয়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এটি ছিল লিটনের ২৮তম ওডিআই ইনিংস, যেখানে এখনো কোনো ফিফটি নেই তাঁর। পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ড সিরিজেও ৪০ রানের ঘরে আউট হওয়া লিটন আজ ৭৩ বলে ৪৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরায় আরও একবার মিরপুরের মাটিতে ফিফটি না পাওয়ার আক্ষেপ সঙ্গী হলো এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের।
লিটন দাস আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে আসেন প্রথম ওডিআই ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাওহীদ হৃদয়ের সাথে জুটি বেঁধে মাত্র ৮৩ বলে ৯৩ রানের এক বিধ্বংসী ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। এই জুটির কল্যাণেই অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং লাইনের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১৩তম ওডিআই ফিফটি তুলে নেন তাওহীদ হৃদয়। তবে ইনিংসের শেষ দিকে রানের গতি আরও বাড়িয়ে দলকে ৩০০-এর কোটায় নিয়ে যাওয়ার আইনি প্রচেষ্টায় বড় শট খেলতে গিয়ে ৮৩ রানে সাজঘরে ফেরেন থিতু হওয়া হৃদয়।
হৃদয়কে বিদায় দিলেও অন্যপ্রান্তে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাট ছিল রীতিমতো রুদ্রমূর্তি। মাত্র ৪৩ বলে নিজের ওডিআই ক্যারিয়ারের ৫ম এবং চলতি চলতি ওডিআই সিরিজের ২য় ফিফটি তুলে নেন এই অলরাউন্ডার। মোসাদ্দেকের এমন ক্যামিও ইনিংসের মাঝেই আড়াই বছর পর ওডিআই দলে ফেরা স্পিন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ৯ বলে মাত্র ৩ রান করে আউট হয়ে হতাশ করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে স্কোরবোর্ডে লড়াকু পুঁজি জমা করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল।
জান্নাত সকালবেলা
|