ইরানে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল

প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
ইরানে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল

সকালবেলা অনলাইন: ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের আগেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হাইকমান্ড। তবে নতুন করে এই সংঘাত শুরু হলে তা কত দিন স্থায়ী হতে পারে, সে বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) হিব্রু সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আম্মানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম রোয়া নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রয়োজনীয় মোতায়েন ও প্রস্তুতিমূলক সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক বিমানও ইসরায়েলে এসে পৌঁছেছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপের জন্য ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান শুরু হলে তা দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি অভিযানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথিত পছন্দের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে, যার মধ্যে দেশটির সামরিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি পুরোপুরি রাজনৈতিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আরেকটি রণাঙ্গনও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আইডিএফ সূত্রের দাবি, উত্তর দিক থেকে ড্রোন ও রকেট হামলার পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযানের সমন্বিত আক্রমণ মোকাবিলাতেও তারা প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের পাশাপাশি সামরিক বিমানের চলাচলও বাড়ানো হয়েছে। তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে, এসব সামরিক তৎপরতার অর্থ এই নয় যে ইরানে হামলা চূড়ান্ত। বরং এগুলো ট্রাম্পের সামনে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প তুলে ধরার একটি অংশ, যা একই সঙ্গে ইরানের যেকোনো সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতিরও একটি মাধ্যম।

এআইএল/সকালবেলা