ব্যাটারি চুরিতে থমকে গেল প্রতিবন্ধী বাচ্চুর জীবন
তৌকির আহাম্মেদ হাসু (জামালপুর প্রতিনিধি): জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রম ও ঘাম ঝরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর বাচ্চু মিয়া। ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মৌসুমি ফল ও নানা খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু দুর্বৃত্তদের হাতে ভ্যানের ব্যাটারি চুরির ঘটনায় তাঁর আয়ের একমাত্র পথ এখন বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই অসহায় পরিবারের।
ঘটনাটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বগারপাড় গ্রামের। গত ২০ অক্টোবর দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির বারান্দায় রাখা ভ্যানটির ব্যাটারিগুলো চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী বাচ্চু মিয়া ওই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভ্যানে করে বিভিন্ন মৌসুমি ফল, তিলের খাজা ও সনাপাপড়ি বিক্রি করে দৈনিক উপার্জনেই চলত তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ।
কিন্তু রাতের আঁধারে ব্যাটারিগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় ভ্যানটি এখন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে আছে। নতুন করে ব্যাটারি কিনতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও চরম আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা জোগাড় করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিজের শ্রমে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র ইচ্ছা থাকলেও সামান্য এই অর্থের অভাবে থমকে আছে তাঁর জীবিকার চাকা।
এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বাচ্চু মিয়া। আবেদনে চুরি হওয়া ব্যাটারিগুলো উদ্ধার এবং নতুন ব্যাটারি ক্রয়ের জন্য সরকারি সহযোগিতা অথবা আর্থিক অনুদানের আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
বাচ্চু মিয়ার এই দুর্দশা কেবল কয়েকটি ব্যাটারি চুরির ঘটনা নয়, এটি একজন পরিশ্রমী মানুষের স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। সরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে তিনি আবারও ভ্যানটি সচল করে কাজে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এআইএল/সকালবেলা