ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়ার বিলিয়ন ডলার মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ক্রেমলিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'তাস'-এর বরাত দিয়ে ক্রেমলিনের জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই কূটনৈতিক আলোচনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সাথে বেশ কিছু সময় ধরেই আলোচনা প্রক্রিয়া চলছে। এই তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ আমেরিকান কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি এই আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তবে আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন উশাকভ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তহবিলটির ওপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং একে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার নিকটতম সহযোগীদের একটি 'অবৈধ তহবিল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম ফাঁস হয় যে ট্রাম্প প্রশাসন এই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দল থেকেই এবং পশ্চিমা মিত্রদের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিলের নীতি বজায় রেখেছেন। এর আগে ট্রাম্প বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছান এবং দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির ওপর সদ্য কার্যকর হওয়া আইন সাময়িকভাবে মওকুফ করেন। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হলে গত জুলাইয়ে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করেছিল, যা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই নমনীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তিনি ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপরও নীতিগত চাপ প্রয়োগ করছেন।

সকালবেলা / নুসরাত