হামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত ইরানি অর্থ ব্যবহারের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানি বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার শতভাগ ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে বাজেয়াপ্ত থাকা তেহরানের নিজস্ব অর্থই ব্যবহার করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মার্কিন করদাতাদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা না চাপিয়ে তেহরানকে পুরোপুরি জবাবদিহির আওতায় আনার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত ও যৌক্তিক পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সফরকালে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সরকারি বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, বর্তমানে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা কোটি কোটি ডলারের ইরানি অর্থ ও সম্পদই তাদের ঘটানো সব ক্ষয়ক্ষতির পূরণে ব্যবহার করা হবে। কৌশলগত গালফ (পারস্য উপসাগর) অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনী কিংবা তাদের সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর দফায় দফায় হামলার পর বৈশ্বিক তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।
জানা গেছে, বর্তমানে মার্কিন অর্থ দপ্তর (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মেরামত খরচ, মালামালের আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পড়া অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করে এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিস্তৃতি ও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করছে। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত জুন মাস থেকেই বিশেষ এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে গোপনে কাজ করছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের এক অনন্য কৌশল হিসেবে দেখলেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বাজেয়াপ্ত অর্থ একতরফাভাবে ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই বিপুল ইরানি ফান্ডের আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি বা সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
|