কুষ্টিয়ায় ট্রেনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত: গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় ট্রেনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত: গ্রেপ্তার ৩

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিটিই’র বিরুদ্ধে যাত্রী বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে রেলওয়ে ও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) দুপুরে পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হুসাইন জানান, আহত যাত্রী আব্দুর রহিম বাদী হয়ে টিটিই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে একমাত্র আসামি করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার সময় ট্রেনে তীব্র ভিড় থাকায় আব্দুর রহিম তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে পাশের বগিতে তুলতে যান। এ সময় টিটিই আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁর স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টিটিই ছুরি এনে আব্দুর রহিম ও তাঁর ছেলে শফিউল আউয়াল সুমনের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা দেড় ঘণ্টা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেন।

অপরদিকে, সরকারি কাজে বাধা, ট্রেন অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এসআই মলয় কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আহত আব্দুর রহিমের দুই ছেলে পলাশ ও সুমনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার দিনই চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা পলাশ, সুমন এবং কুষ্টিয়ার পূর্ব মজমপুর এলাকার মামুন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

তবে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, "আমার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত অসুস্থ স্ত্রীকে ভিড়ের কারণে পাশের বগিতে তুলতে গেলে টিটিই আমাদের ওপর হামলা চালান। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, সরকারি ডিউটিতে বাধা, ট্রেন ভাঙচুর ও মব সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন