ফ্রান্সে দাবানল উসকে দেওয়ার অভিযোগে ২০ দিনে ১৬২ জন গ্রেফতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে দাবানল উসকে দেওয়ার অভিযোগে ২০ দিনে ১৬২ জন গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। অসতর্কতা, অসচেতনতা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে দিয়ে দাবানল উসকে দেওয়ার অভিযোগে গত ৬ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনে দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নু এই গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একই সাথে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবানল সৃষ্টির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি লেখেন:

“যারা দাবানল উসকে দিচ্ছে, তাদের যেকোনো মূল্যে খুঁজে বের করা হবে, গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতে সোপর্দ করার পূর্বেই নিজেদের এই চরম ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।”

ফরাসি প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, চলতি বছর বছরের শুরু থেকেই ফ্রান্সে রেকর্ড মাত্রায় দাবানলের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে দেশজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার ৫৬৬টি দাবানলের ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে। এতে করে দেশের অন্তত ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ হেক্টর বন ও গাছপালা পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ৭২ হাজার হেক্টর জমির গাছপালা নষ্ট হয়েছিল, এতদিন সেটিই ছিল ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় দাবানলজনিত ক্ষয়ক্ষতি।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নু জানান, ফ্রান্সে সংঘটিত প্রতি ১০টি দাবানলের মধ্যে ৯টির পেছনের কারণই মূলত মানবসৃষ্ট। জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ অসতর্কভাবে খোলা জায়গায় ফেলে দেওয়া, বনাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বারবিকিউর আয়োজন করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না মেনে নির্মাণকাজ চালানোসহ নানা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে আগুনের এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাবধানতাবশত দাবানল সৃষ্টি করে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ন্যূনতম ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

মন্তব্য করুন