দেশের কারাগারে বিপন্ন শৈশব: ২৯৯ শিশুর উন্নত জীবনযাত্রা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট
আদালত প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের বয়স ও সংখ্যাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দুই মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাবন্দি এসব শিশুর কল্যাণ, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ ও রুল জারি করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং কারা মহাপরিদর্শককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন।
এর আগে গত ৯ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শীর্ষক প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জেল কোডের ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী—নারী বন্দিরা (হাজতি ও কয়েদি) চার বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের থাকার অনুমতি দিতে পারে। আইন অনুযায়ী, শিশুর বয়স ছয় বছরের বেশি হলে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজন না থাকলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশু পরিবার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে মোট ২৯৯টি শিশু অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। কারাবন্দি এসব মায়েদের অনেকেই মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি, কেউ বিচারাধীন আবার কেউ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, মায়েদের সঙ্গে ঢাকা বিভাগে ১০০ জন, চট্টগ্রামে ৯০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, সিলেটে ১৯ জন, রংপুরে ২৫ জন, খুলনায় ২০ জন, বরিশালে ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত সেখানে ৫১টি শিশু মায়ের সঙ্গে ছিল, যার মধ্যে ২৪ জন ছেলে এবং ২৭ জন মেয়ে। কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মা হত্যা ও মাদক মামলার আসামি হওয়ায় এই শিশুরা সাধারণত নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সাধারণ ওয়ার্ডেই অবস্থান করে।
|