মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকের বিশ্বরেকর্ড
বিনোদন প্রতিবেদক:বিশ্বসংগীতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যান্ডসেটার এবং পপ মিউজিকের অবিসংবাদিত সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন এবার রূপালি পর্দার গ্লোবাল বক্স অফিসেও এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। তাঁর বর্ণিল ও আলোড়িত জীবন নিয়ে নির্মিত হলিউডের মেগা প্রজেক্ট ‘মাইকেল’ (Michael) বিশ্বজুড়ে আয়ের সমস্ত রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী একের পর এক সিনেমা হল কাঁপিয়ে ছবিটি এখন সিনেমা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিকের রাজমুকুট নিজের দখলে নিয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল সিনেমা, বক্স অফিস ট্র্যাকিং ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘হলিউড মুভি রিলিজ, ফিন্যান্সিয়াল বক্স অফিস অ্যানালাইসিস ও পপ কালচার মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে পপসম্রাটের এই সিনেমাটিক বিজয় ও ভেতরের সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
হলিউডের অফিশিয়াল বক্স অফিস ডেটাবেজ খতিয়ান অনুযায়ী, ‘মাইকেল’ সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বিস্ময়করভাবে ৯১১ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। এর মাধ্যমে এটি ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘কুইন’-এর প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র (Bohemian Rhapsody) ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক আয়ের রেকর্ডকে টপকে গেছে।
আয়ের সুনির্দিষ্ট মেথডলজি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ছবিটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই ৩৫৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ৫৫৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের মেগা মার্কেট থেকে শুরু করে ফ্রান্স ও মেক্সিকোর মতো বড় বড় বাজারে ছবিটি পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে জাপানের বাজারে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কন্ডিশন তৈরি হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে সিনেমাটি খুব দ্রুতই ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করার আইনি ট্র্যাকে রয়েছে।
সিনেমা রিভিউ খতিয়ান অনুযায়ী, এই ছবির সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP) বা আকর্ষণ হলো মাইকেল জ্যাকসনের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁরই বাস্তব জীবনের আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের (Jaafar Jackson) অনবদ্য কাস্টিং। চেহারা, শারীরিক গঠন, নিখুঁত মুনওয়াক নাচ এবং মঞ্চ উপস্থিতিতে জাফর তাঁর চাচার অবিকল রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবিটির পরিচালনায় ছিলেন ‘ট্রেনিং ডে’ খ্যাত নামী নির্মাতা অ্যান্টনি ফুকোয়া এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন অস্কার মনোনীত জন লোগান।
মজার সমীকরণ হলো, ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ এবং বর্তমান ‘মাইকেল’—দুটি মেগা হিট ছবির পেছনেই ছিলেন একই প্রযোজক গ্রাহাম কিং। ফলে তিনি কার্যত নিজের গড়া বিশ্বরেকর্ড নিজেই ভাঙার এক অনন্য কৃতিত্ব দেখালেন। তবে এই ছবির যাত্রা সহজ ছিল না; মুক্তির আগে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট কর্তৃপক্ষ একটি বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে আইনি আপত্তি তোলায় প্রায় ৫ কোটি ডলার অতিরিক্ত জরিমানা ও খরচ দিয়ে ছবিটির বেশ কিছু মেগা দৃশ্যের পুনরায় শুটিং করতে হয়েছিল।
সমালোচকদের মতে, ৩৫ কোটির বেশি অ্যালবাম বিক্রি করা এবং টানা ৩৭ সপ্তাহ মার্কিন চার্টের শীর্ষে থাকা ‘থ্রিলার’ (Thriller) অ্যালবামের স্রষ্টা মাইকেল জ্যাকসনকে এই ছবির মাধ্যমে ২০২৬ সালের নতুন প্রজন্মের কাছে একদম নতুন মেথডে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘বিলি জিন’, ‘বিট ইট’ কিংবা ‘স্মুথ ক্রিমিনাল’-এর মতো কালজয়ী গানের পিছনের গল্প ও বিতর্ককে ফুটিয়ে তোলা এই বায়োপিকটি প্রমাণ করেছে যে, পপসম্রাটের জীবনের আবেদন চিরন্তন।
জান্নাত সকালবেলা
|