যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চালক ও ১১ স্কাইডাইভারের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সুরক্ষিত আকাশসীমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ বেসরকারি বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় এক ইঞ্জিনের একটি ছোট টার্বোপ্রপ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১ জন পাইলট ও ১১ জন যাত্রীসহ মোট ১২ জন আরোহীর সবাই জীবন্ত দগ্ধ ও নিহত হয়েছেন। নিহত যাত্রীরা সবাই আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফানো বা শৌখিন স্কাইডাইভিং (Skydiving) অনুশীলনের উদ্দেশ্যে আকাশে উড়াল দিয়েছিলেন। গতকাল রোববার ছুটির দিনে প্রকাশ্য দিবালোকে এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্রাইম, এভিয়েশন সেফটি ও আন্তর্জাতিক খতিয়ান’ এবং ‘এভিয়েশন ডিজাস্টার ইনভেস্টিগেশন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও গ্লোবাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান দুর্ঘটনার মেথডলজি ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির মালিকানায় ছিল ‘স্কাইডাইভ কানসাস সিটি’ নামের একটি স্থানীয় শৌখিন প্যারাট্রুপার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রোববার রাত ১০টা ২০ মিনিটে) মিসৌরির বেটস কাউন্টির বাটলার মেমোরিয়াল এয়ারপোর্টের খুব কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বেটস জেলা জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক এবং বাটলার মেমোরিয়াল এয়ারপোর্টের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার ডেনিস জ্যাকব বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খতিয়ান দিয়ে বলেন, “উড়োজাহাজটি ছিল মূলত সিঙ্গল ইঞ্জিনের একটি টার্বোপ্রপ প্লেন। বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে সফলভাবে টেক-অফ বা উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটিতে গুরুতর যান্ত্রিক গণ্ডগোল শুরু হয়। বিমানটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় ওপরে উঠতে পারছিল না। কয়েক সেকেন্ড আকাশে ভারসাম্যহীনভাবে দোদুল্যমান বা কাঁপতে থাকার পর, হঠাত সেটি বাম দিকে তীব্র বেগে নাক থুবড়ে নিচে নামতে শুরু করে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার সাথে সাথেই একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে চালক ও আরোহীদের কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
যে স্থানে বিমানটি ভূপাতিত বা ক্র্যাশ করেছে, সেখান থেকে বিমানবন্দরের মূল রানওয়ের দূরত্ব ছিল মাত্র ২৭৪ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক ও আকাশপথ নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এক জরুরি আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজটি ছিল বিখ্যাত মার্কিন এভিয়েশন কোম্পানি প্যাসিফিক অ্যারোস্পেসের তৈরি একটি ‘৭৫০ এক্সেল’ (750 XL) মডেলের বিমান। এটি আকারে বেশ ছোট এবং ব্যক্তিগত বা শৌখিন স্পোর্টস ব্যবহারের উপযোগী একটি লাইট এয়ারক্রাফট।
এনটিএসবির তদন্ত মেথডলজি অনুযায়ী, ইঞ্জিনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, জ্বালানি লাইনের কন্ডিশন নাকি পাইলটের কোনো ট্যাকটিক্যাল ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল—তা নিখুঁতভাবে জানতে ব্ল্যাক বক্স (Black Box) উদ্ধারসহ ল্যাবরেটরি তদন্ত শুরু হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (FAA) এই তদন্তের সাথে যুক্ত হয়েছে।
আমেরিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খতিয়ান অনুযায়ী, মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যে নিহত হওয়া ১২ জন মার্কিন নাগরিকের নাম-পরিচয় ও ডিএনএ (DNA) মেথডে প্রোফাইল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের নিকটাত্মীয় ও পরিবারকে এই চরম মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কন্ডিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের মাননীয় গভর্নর মাইক কেহোয়ে। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “বাটলার শহরের এই বিমান দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শৌখিন স্কাইডাইভার ও চালকের এমন অকাল বিদায় আমাদের পুরো অঙ্গরাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের এই কঠিন কন্ডিশন কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তাদের পাশে আইনি ও মানবিক সহায়তার গেমপ্ল্যান নিয়ে দাঁড়িয়েছি।” যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার সেফটি নেটওয়ার্কের মতে, ছোট বেসরকারি বিমানগুলোর নিয়মিত ফিটনেস চেকআপের আইনি মেথড আরও কড়া করা প্রয়োজন।
জান্নাত সকালবেলা
|