বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। বৈশ্বিক পণ্য বাজারে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হওয়ায় আজ সপ্তাহের মাঝামাঝি এসে স্বর্ণের দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুর ২টা ৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘অর্থনীতি’ ও ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য বাজার’ বিভাগের এক বিশেষ বুলেটিনে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামার চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে (Spot Market) স্বর্ণের দাম মূল্যবান ধাতুটির পূর্বের মূল্যের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। এই পতনের ফলে প্রতি আউন্স (Ounce) স্বর্ণের দাম ৪,৪৭৬.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসে ডেলিভারির জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও (US Gold Futures) শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পতন নিয়ে ৪,৫০৪.৪০ ডলারে লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়ছে, যা সামগ্রিক বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির (Global Inflation) চাপকে আরও অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই জটিল পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Federal Reserve), তাদের ব্যাংকিং সুদের হার কমানোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর মূল্যের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কারণ ব্যাংকে সুদের হার বেশি থাকলে কোনো ধরনের নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে বহুজাতিক বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দিয়ে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়—এমন ফিক্সড ডিপোজিট বা সরকারি বন্ডের মতো আর্থিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারের শীর্ষ সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের এই গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ ওঠানামা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি, তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন এবং সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের আগামী সপ্তাহের মুদ্রানীতির (Monetary Policy) আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে বিশ্বমঞ্চে নতুন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সংকেত আসার সাথে সাথেই তা সরাসরি বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার প্রভাব খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণের বাজারেও (BAJUS নির্ধারিত মূল্য) পড়তে পারে বলে মনে করছেন দেশীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।
জান্নাত সকালবেলা