ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তেলের দাম হু হু করে কমবে: ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তেলের দাম হু হু করে কমবে: ট্রাম্প
র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ছবি: সংগৃহীত)।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিজয়ের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ‘দ্রুত ও নজিরবিহীন’ পতন ঘটবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৩ ডলারে নেমে আসবে। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই দাম আরও কমে প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়, বরং খুব দ্রুতই দেখা যাবে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমার পূর্বাভাস দিচ্ছেন, তখন বাস্তবতায় বৈশ্বিক বাজারে চলছে ঠিক বিপরীত চিত্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম সোমবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত পাঁচ কার্যদিবসেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ এবং গত এক মাসের ব্যবধানে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

সোমবারের এই বর্ধিত বাজারদর চলতি বছরের ২৪ জুলাইয়ের রেকর্ড সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি চলে এসেছে; ওই দিন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট তেলের দাম ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলারের ওপরে উঠেছিল।

বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন চরম সংকটের মধ্যেই ট্রাম্পের এই আশ্বাস বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন