ভারতের অস্ত্রাগারে ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ণ
ভারতের অস্ত্রাগারে ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড
ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ফাইল ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে নতুন এক মূল্যায়নে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ (এফএএস)। একই সাথে দেশটি ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডারের আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখায় ভবিষ্যতে এই ওয়ারহেডের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সুস্পষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এফএএসের গবেষণার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এফএএসের নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের পরিচালক ও খ্যাতনামা পারমাণবিক অস্ত্র গবেষক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেনের যৌথভাবে তৈরি ‘ইনডিয়াস নিউক্লিয়ার – ২০২৬’ শীর্ষক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সরকারি নথিপত্র, উন্মুক্ত সামরিক তথ্য এবং উচ্চ রেজল্যুশনের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের এই সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ১৯০টি ওয়ারহেডের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি পুরোপুরি সক্রিয় এবং পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া নতুন উদ্ভাবিত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় যুক্ত করার জন্য আরও প্রায় ৩০টি ওয়ারহেড প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা—অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান, স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সাবমেরিন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে বিপুল জোর দিয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন ও উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি বর্তমানে সক্রিয় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার ক্ষেত্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ফিসাইল ম্যাটেরিয়ালস’ (আইপিএফএম)-এর হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের সূচনালগ্নে ভারতের হাতে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী (ওয়েপন-গ্রেড) প্রায় ৭৩০ কেজি প্লুটোনিয়াম সংরক্ষিত রয়েছে (যার সম্ভাব্য তারতম্য হতে পারে প্রায় ১৭০ কেজি)।

সামরিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি আধুনিক পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরিতে আনুমানিক ৪ কেজি প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন হলে এই কাঁচামাল দিয়ে ১৪০ থেকে ২২৫টি পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেড তৈরি করা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। তবে ভারতের ব্যবহৃত অস্ত্র নকশা ও প্রযুক্তির স্পর্শকাতরতার কারণে এই সংখ্যার নির্দিষ্ট মাত্রা কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

এফএএস আরও উল্লেখ করেছে, ভারত তাদের সব প্লুটোনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে তাৎক্ষণিকভাবে রূপান্তর না করে কৌশলগত কারণে ভবিষ্যতের জন্য কিছু মজুত রেখে দিচ্ছে। যদিও ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক পোখরান পরীক্ষায় ভারতের ফিশন বোমার কার্যকারিতা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছিল, তবে তাদের বুস্টেড ফিশন ও থার্মোনিউক্লিয়ার (হাইড্রোজেন বোমা) সক্ষমতা কতটা নিখুঁত, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মাঝে এখনো কিছু সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ (এনএফইউ) নীতি বা প্রথমে পারমাণবিক হামলা না চালানোর অবস্থান ঘোষণা করে তা বজায় রেখে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, তারা কেবল বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধক্ষমতা’ (Credible Minimum Deterrence) নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে চলছে। তবে এফএএসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য এবং বিভিন্ন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই ভারতের এই পরমাণু অস্ত্রাগারের চূড়ান্ত বিস্তার নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য করুন