জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় এ-১০ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় এ-১০ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত
জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধবিমান

জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত কৌশলগত ও সংবেদনশীল একটি ঘাঁটিতে রাতভর ইরানের পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একাধিক উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সিবিএস নিউজের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জেনিফার জেকবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ‘মুওয়াফফাক সালতি’ (যা স্থানীয়ভাবে আল-আজরাক বিমানঘাঁটি নামেও পরিচিত)—সেখানে লক্ষ্যভেদী হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলায় ভূমিতে সরাসরি আঘাতের শিকার হয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী ক্লোজ-এয়ার সাপোর্ট যান ‘এ-১০ থান্ডারবোল্ট’ (A-10 Thunderbolt II), যা সামরিক মহলে ‘ওয়ারথগ’ নামে বহুল পরিচিত। বিস্ফোরণের তীব্রতায় যুদ্ধবিমানটির একটি ডানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ওই বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গারে অবস্থান করা অন্তত আটটি উন্নত ‘এফ-১৫’ (F-15) ফাইটার জেট হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই ঘাঁটিটিতে নিয়োজিত মার্কিন বিমান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিগত দল দ্রুত জরুরি মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকেই পুনরায় অপারেশনের উপযোগী করে প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে নিজেদের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানের এই ঘাঁটিতে দূরপাল্লার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দাবি করেছিল ইরানের এলিট রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরান দাবি করেছিল, হামলায় মার্কিন ঘাঁটির যুদ্ধবিমান মেরামতের হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জর্ডান সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই নতুন তথ্যে নিশ্চিত হলো যে, প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ইরানের কিছু আঘাত সরাসরি মার্কিন সামরিক বিমানের ওপর আছড়ে পড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই তথ্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন