নীতিমালা তৈরির পরও মিলছে না তেল আমদানির অনুমতি
বিশেষ প্রতিনিধি: দেশে চরম জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে তেল আমদানি ও মজুতের খসড়া নীতিমালা অনুমোদনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) গড়িমসির কারণে ঝুলে আছে নীতিমালার চূড়ান্ত রূপ।
গত ৬ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পত্রে বিপিসি চেয়ারম্যানকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে 'বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬'-এর একটি খসড়া প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য—দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও বিপিসি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) উক্ত খসড়া তৈরি বা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেননি।
এর আগে ২৪ মে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি ও বিপণনের আবেদন জানান। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে করা ওই আবেদনের প্রেক্ষাপটে ২ জুলাই আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে মতামত দিতে বিপিসিকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
সায়েম সোবহান জানান, ২০২৪ সালের ১০ জুন বিওজিসিএল অপরিশোধিত তেল আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশন স্থাপন এবং এলপিজি/অটোগ্যাস স্টেশন রূপান্তরের অনুমতি পায়। 'বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন নীতিমালা-২০২৩'-এর ধারা অনুযায়ী ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে তাদের।
এ ছাড়া দেশের অপর একটি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'ওমেরা'ও জ্বালানি তেলের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আজম জে চৌধুরী, যিনি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছিলেন। এত কিছুর পরও নীতিমালার কাজ আটকে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত করার চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে।
এআইএল/সকালবেলা