বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে সহায়তার আশ্বাস দিল এডিবি
সম্প্রতি ৯ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে সংস্থাটির দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং এক বিবৃতিতে জানান, উৎপাদনশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও সহনশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সব ধরনের নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে এডিবি।
সফরকালে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এডিবির পরবর্তী ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’ (সিপিএস), প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এবং ‘সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ (আইজিএনডি) উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা পরিচালনা করেন।
ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, "প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী তোড়জোড়, অভ্যন্তরীণ সেবাখাতের অবিচল কার্যক্রম এবং বেসরকারি খাতের ধারাবাহিক গতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ চমৎকার অর্থনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। এই সক্ষমতাকে এখন দীর্ঘমেয়াদি গভীর অর্থনৈতিক রূপান্তরে রূপ দেওয়ার উপযুক্ত সময়।"
এডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমায় আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। ২০২৬ অর্থবছরে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪.৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এই গতি ধরে রাখতে ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, কর প্রশাসন শক্তিশালীকরণ এবং বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার মতো উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে ঢাকার বাইরে অর্থনৈতিক সুযোগ ছড়িয়ে দিতে আইজিএনডি উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সাথে সম্প্রতি সূচিত এডিবির ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে’ উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল সক্ষমতা, ব্রডব্যান্ড প্রসার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে এডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই বৃহৎ বাজারের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একটি অনন্য সুযোগ। অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে দক্ষ শুল্ক ব্যবস্থা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত অনুমোদন যুক্ত করতে পারলে এ অঞ্চলে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।
|