ফুলগাজী সরকারি কলেজে ল্যাবে চুরি, ছাত্র গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফুলগাজী সরকারি কলেজে ল্যাবে চুরি, ছাত্র গ্রেপ্তার

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর ফুলগাজী সরকারি কলেজের কম্পিউটার ল্যাব ও লাইব্রেরি কক্ষ থেকে কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকার কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও আইটি সামগ্রী চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওই কলেজেরই এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ শনিবার (২৩ মে) ফুলগাজী থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারের পর ওই ছাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফেনী শহরের একটি বাসা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার টাকা মূল্যের আইটি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান (১৭) ফুলগাজী সরকারি কলেজের এইচএসসি ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ (প্রথম) বর্ষের মানবিক বিভাগের নিয়মিত ছাত্র।

ফুলগাজী থানা পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী থানাধীন ১ নম্বর ফুলগাজী ইউনিয়নের ফুলগাজী সরকারি কলেজের পুরাতন দুইতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরি কক্ষ এবং নতুন ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার কম্পিউটার ল্যাব থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশ চুরি হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ গত ১১ এপ্রিল বিকেলে লাইব্রেরি কক্ষের তালা খোলার পর প্রথম চুরির বিষয়টি টের পায়। এর কিছুদিন পর, গত ৪ মে কম্পিউটার ল্যাবে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকরা দেখতে পান সেখানকার মূল পিসিগুলোর যন্ত্রাংশ গায়েব। দুই দফায় চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল— ৩১টি প্রসেসর, ১১টি সিপিইউ কুলার ফ্যান, ৩০টি ৮ জিবি ডিডিআর-৪ র‍্যাম, ৩০টি হার্ডডিস্ক, ৩টি মাদারবোর্ড, ২টি হাই-স্পিড সুইচ হাব ও ২টি রাউটার; যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।

এই ঘটনায় ফুলগাজী সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করলে পুলিশ দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ফুলগাজী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইটি চোর চক্রের সন্ধানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে গত ২১ মে ফেনী মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের শান্তি কোম্পানি রোড এলাকার একটি চারতলা বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসানের ব্যবহৃত শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় বিপুল পরিমাণ আইটি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে— ৫টি কোর-আই প্রসেসর, ১৭টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন র‍্যাম, ১৭টি হার্ডডিস্ক, ১টি ওয়াইফাই রাউটার, ৩টি মাদারবোর্ড ও ২টি নেটওয়ার্ক সুইচ হাব; যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার টাকা। বাকি মালামাল ইতোমধ্যে সে ঢাকায় বিক্রি করে দিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

মালামাল উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত সাকিবের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে একই দিন (২১ মে) বিকেলে ফেনী শহরের হাজারী রোড এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আটককৃত কিশোর সাকিবের বয়স মাত্র ১৭ বছর হওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ ও তার অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাকে থানায় অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের কলেজের কম্পিউটার ল্যাব থেকে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে পার্টসগুলো খুলে ব্যাগে করে পাচারের সত্যতা সম্পূর্ণ স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম/টঙ্গীর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে ও জেলা জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। চুরির বাকি মালামাল ও চোরাই মাল কেনা চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন