এইচএসসি কেন্দ্রের সিসিটিভি ও তথ্য পাঠানোর চিঠি বাতিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ণ
এইচএসসি কেন্দ্রের সিসিটিভি ও তথ্য পাঠানোর চিঠি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় এক নাটকীয় মোড় এসেছে। পরীক্ষার কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আচমকাই স্থগিত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ডিজিটাল নজরদারির এই বিশেষ নির্দেশনা জারির মাত্র এক দিনের মাথায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১৩ মিনিটে) অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ও শিক্ষা বোর্ড আপডেট’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিনে বোর্ডের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং এর পেছনের নানামুখী আলোচনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

অফিশিয়াল রুটিন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত সোমবার (১ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল চিঠি সব পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি থানা বা সরকারি ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনার দায়িত্বে প্রতিদিন কারা থাকবেন, তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যও বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এর ঠিক এক দিন পর, গত ২ জুন সেই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি সম্পূর্ণ বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনামূলক চিঠিতে বলা হয়েছে, “এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সিসিটিভির ডিভিআর (DVR) ও এনভিআরের (NVR) সঙ্গে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং প্রশ্নপত্র গ্রহণে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তথ্য পাঠানো সংক্রান্ত আগের চিঠিটি আপাতত স্থগিত করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে যথোপযুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোকে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ নির্দেশে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সফলভাবে সচল রাখা হয়েছিল। বোর্ডের দাবি ছিল, এই আধুনিক নজরদারির ফলে কেন্দ্রগুলোতে নকল করার প্রবণতা ও প্রশ্ন ফাঁসের গুজব জ্যামিতিক হারে কমেছে।

তবে এই ডিজিটাল কঠোরতা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একাংশ এবং দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষাবিদ ও মনস্তাত্ত্বিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষার হলের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো জাজ্বল্যমান কঠোর নজরদারি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনের ওপর এক ধরনের অবচেতন মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং নেতিবাচক ভীতি তৈরি করতে পারে, যা তাদের স্বাভাবিক পরীক্ষা দেওয়ার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করবে।

হঠাৎ করে নির্দেশনা জারির পরদিনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মূল কারণ জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু সরাসরি বলেন, “আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর জটিলতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে আগের চিঠিটা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। খুব শিগগিরই হয়তো সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে নতুন আরেকটি কার্যকারী চিঠি দেওয়া হবে।” তবে ঠিক কী কারণে বা কার চাপে এই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে বোর্ডকে এক দিনের মাথায় পিছু হটতে হলো, সেটিকে সম্পূর্ণ ‘বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়’ উল্লেখ করে বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানান। বোর্ডের এই আকস্মিক পিছুটানে কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন