বাজেটকে ‘প্রতারণামূলক’ বলল এনসিপি

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ
বাজেটকে ‘প্রতারণামূলক’ বলল এনসিপি
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘প্রতারণামূলক’ ও ‘জনপ্রত্যাশাবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, বাজেটে কিছু ইতিবাচক বিষয় থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বাজেট নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আতিক মুজাহিদ বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথা বলা হলেও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বাজেটের ভেতরে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায়। তার ভাষায়, এটি জনগণের কাছে বাস্তবতার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, বাজেটের আকার অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং অনেকাংশে ইশতেহারনির্ভর। এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তার দাবি, বিদ্যমান কাঠামোতে সরকার যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অথচ নতুন বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। এনসিপির হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৪ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় সম্ভব হতে পারে, ফলে বড় ধরনের ঘাটতির ঝুঁকি থেকে যাবে।

বাজেট ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার সমালোচনা করে আতিক মুজাহিদ বলেন, দেশে ও বিদেশে সরকারের ঋণের পরিমাণ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যাংক খাত থেকে আরও বেশি ঋণ নেওয়া হলে আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়বে।

তার ভাষ্য, ব্যাংকিং খাত থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে সরকারকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের অনেক মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করমুক্ত আয়সীমা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা। কিন্তু সরকার তা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছে।

আতিক মুজাহিদের মতে, অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি ও প্রধান অংশীজনদের চাহিদার পরিবর্তে বাজেটটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারনির্ভর এবং অস্বাভাবিকভাবে বড় আকারের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন