তওবা করার সঠিক নিয়ম ও দোয়া
ইসলামী জীবন ডেস্ক: মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, তবে সেই ভুল বুঝতে পেরে মহান আল্লাহর পথে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। ‘তওবা’ শব্দের অর্থ হলো প্রত্যাবর্তন করা বা ফিরে আসা। গুনাহের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার এই সুবর্ণ সুযোগ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন।
তওবার গুরুত্ব: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, খাঁটি তওবা।" (সুরা তাহরিম: ৮)। নবীজি (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন শতবার তওবা করতেন। তিনি বলেছেন, মৃত্যুযন্ত্রণার আগ পর্যন্ত আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন।
তওবা করার ৫টি আবশ্যিক শর্ত: ১. কৃত পাপের কথা স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া। ২. তাৎক্ষণিকভাবে সেই পাপাচার সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া। ৩. ভবিষ্যতে ওই পাপে আর লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। ৪. যদি কারও হক বা অধিকার নষ্ট করা হয় (যেমন—টাকা বা সম্পদ আত্মসাৎ), তবে তা অবশ্যই ফিরিয়ে দেওয়া বা তাঁর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। ৫. তওবার পর বেশি বেশি নেক আমল করার চেষ্টা করা।
তওবা করার পদ্ধতি: তওবা করার জন্য সুন্দর করে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ (সালাতুত তওবা) আদায় করা উত্তম, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। মূল বিষয় হলো আল্লাহর কাছে একান্তে ক্ষমা চাওয়া। মনে রাখতে হবে, জীবনের শেষ মুহূর্তে নয়, বরং গুনাহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তওবা করা উচিত।
|