সেহরিতে যা খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থাকে না

সেহরিতে যা খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থাকে না

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পবিত্র রমজানে রোজা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। এটি কেবল ধর্মীয় সুন্নত নয়, বরং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার জন্য শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীর যাতে ক্লান্ত না হয় এবং পানিশূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য সেহরির খাবারে সঠিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

সেহরির জন্য সেরা খাবার: সারাদিন শরীর সতেজ রাখতে সেহরিতে এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ রক্তে পুষ্টি সরবরাহ করে। তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মুরগির মাংস, ডিম বা দই রাখা যেতে পারে। এগুলো দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা অনুভব হতে দেয় না। এছাড়া জটিল শর্করা বা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন লাল চালের ভাত, ওটস বা লাল আটার রুটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল কলা এবং পানি সমৃদ্ধ ফল তরমুজ, আপেল বা পেঁপে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।

পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরিতে আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার এবং ওমেগা-৩ যুক্ত বাদাম বা চিয়া সিড রাখা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। খেজুর সুন্নতি খাবার হওয়ার পাশাপাশি এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া দুগ্ধজাত খাবার হিসেবে দুধ বা দই ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। খাবারের শুরুতে বা শেষে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি যাতে সারাদিন পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

সতর্কতা: অনেকে রোজা রাখার ভয়ে সেহরিতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে ফেলেন, যা একেবারেই অনুচিত। এ ধরনের খাবার দ্রুত তৃষ্ণা বাড়ায় এবং এসিডিটির সমস্যা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকেও বিরত থাকা ভালো, কারণ এটি শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। মনে রাখতে হবে, সেহরি হতে হবে সুষম এবং পরিমিত, যা সারাদিনের কর্মশক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন