নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ও জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ECOSOC)-এর অধীনে অনুষ্ঠিতব্য হাই-লেভেল ‘হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট’-এ বাংলাদেশের হয়ে জোরালো অবস্থান তুলে ধরতে তিনি এই সফর করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ কীভাবে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক মানবিক সংকটগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করছে, তা এই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক লিয়াজোঁ ও বহুপাক্ষিক পলিসি খতিয়ান’ এবং ‘ইউনাইটেড নেশনস অ্যাফেয়ার্স, গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্স ও ফরেন পলিসি ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে প্রতিমন্ত্রীর এই জাতিসংঘ সফরের শিডিউল ও আলোচ্যসূচির খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা অনুবিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, আগামী ১৭ থেকে ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল-এর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের ২০২৬ সালের মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক সেগমেন্টে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেথড অনুযায়ী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের প্রধান বা দলনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক আলোচনা টেবিলে অংশ নেবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা ত্যাগের পর তিন দিনব্যাপী এই মেগা সেগমেন্টের বিভিন্ন ওয়ার্কিং সেশন ও গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বক্তব্য রাখবেন। জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন ও সাইডলাইন বৈঠকগুলোর মেথডলজি সম্পন্ন করে আগামী ২০ জুন নিউইয়র্ক থেকে সরাসরি তাঁর দেশে ফেরার কন্ডিশন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অফিশিয়াল ফিক্সচার খতিয়ান অনুযায়ী, এবারের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল-এর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূত হেক্টর গোমেজ এবারের আন্তর্জাতিক সেগমেন্টে মূল চেয়ার বা সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতিসংঘের এই বিশেষ উইংটি হলো—বিশ্বব্যাপী চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শরণার্থী সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকট মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার দ্রুত ও কার্যকর সমন্বয় সাধনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। প্রতি বছর জাতিসংঘের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র, বিভিন্ন মানবিক সাহায্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা দেশ এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে একটি সর্বসম্মত মানবিক প্রস্তাব (Humanitarian Resolution) গ্রহণ করা হয় এই সেগমেন্টে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ও অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠা মানবিক জরুরি অবস্থাগুলো মোকাবিলায় সম্মিলিত বৈশ্বিক সাড়াদান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের (IHL) কঠোর প্রয়োগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলোতে গভীর আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই অধিবেশনে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের সঠিক বণ্টন এবং সংকট-কবলিত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই পুনর্বাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গেমপ্ল্যান ও প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবে। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর নীতি-নির্ধারক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (NGO), আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ এবং সরাসরি সংকট-কবলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার নতুন বাজেট ও মেথডলজি অনুমোদন করবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানবিক কূটনীতির অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জান্নাত সকালবেলা
|