ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: পদ্মার বুকে জেগে ওঠা মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল যেন এক ভিন্ন জগৎ। এখানে মানুষের প্রতিটি সকাল শুরু হয় অনিশ্চয়তা আর নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে। নদী জমি কেড়ে নেয়, আবার নতুন চর জেগে ওঠে—এই নিষ্ঠুর চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও মাদবরের চরের কয়েক হাজার মানুষের জীবন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এসব মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও মাছ ধরা। কিন্তু প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল এই জীবিকা মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড করে দেয় আকস্মিক ভাঙন কিংবা খরা। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল জুড়ে নামে আতঙ্কের ছায়া। চরের বাসিন্দা আবুল চৌকিদার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, "প্রতি বছর নদী আমাগো ঘরবাড়ি খায়, আমরা আবার নতুন কইরা বাঁধি। আমাগো এই কষ্টের কথা কেউ দেখে না।"
পাকা রাস্তার অভাবে নৌকা ছাড়া চলাচলের বিকল্প নেই চরাঞ্চলবাসীর। বর্ষায় উত্তাল নদী পাড়ি দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি জরুরি চিকিৎসায় কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আউয়াল মিয়া নামে এক বাসিন্দা জানান, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অনেককেই করুণ পরিণতির শিকার হতে হয়।
বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক অধিকার থেকে আজও বঞ্চিত এ অঞ্চলের বিশাল জনপদ। যাতায়াত সমস্যার কারণে শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার পর আর উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না। কলেজছাত্রী রাবেয়া আক্তারের মতে, উপজেলা সদরে গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক দুঃসাধ্য লড়াই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে, তবে ভৌগোলিক কারণে সেবা পৌঁছে দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, বিচ্ছিন্ন এই জনপদকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়া এখন সময়ের দাবি।
পদ্মার এই চরাঞ্চল যেন বাংলাদেশের এক সংগ্রামী বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে টিকে থাকা মানেই প্রতিদিন একটি নতুন যুদ্ধে জয়লাভ করা।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ