হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর পর ক্ষমতা হারালেন ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ওরবান

হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর পর ক্ষমতা হারালেন ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ওরবান

বুদাপেস্ট: সেন্ট্রাল ইউরোপের রাজনীতিতে এক বিশাল রদবদল ঘটিয়ে হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা পিটার মাগিয়ার। দেশটির জাতীয় নির্বাচন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮১ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে মাগিয়ারের ‘টিজা পার্টি’ ৬৮.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে অভাবনীয় সাফল্যের পথে রয়েছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে হাঙ্গেরির পার্লামেন্টের ১৯৯টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৩৭টি আসন পেতে যাচ্ছে তাঁর দল।

মাগিয়ারের এই জয় এতটাই বিশাল ছিল যে, দেশটির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান রোববার রাতে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে হাঙ্গেরির ক্ষমতায় থাকা ওরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সবচেয়ে দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। পরাজয় স্বীকার করে ওরবান বলেন, "ফলাফল স্পষ্ট এবং বেদনাদায়ক। আমরা এখন বিরোধী দলে থেকে দেশের সেবা করব, তবে কখনও হাল ছাড়ব না।" তিনি ইতিমধ্যে পিটার মাগিয়ারকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মাগিয়ারের এই বিজয়কে ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্টজ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মাগিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে একে ইউরোপীয় স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন মোড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে ইউরোপীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইতালি ও স্পেনের রাষ্ট্রপ্রধানরাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মাগিয়ারের এই জয় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মাগিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে কিইভের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে ওরবান ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েক বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজে বারবার ভেটো দিয়ে আসছিলেন। এখন মাগিয়ারের নেতৃত্বে ইউক্রেনের জন্য ইইউ-এর ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণের পথ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিনের প্রতি নমনীয় ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওরবানের অবস্থান থেকে সরে এসে মাগিয়ার রুশ প্রভাবের কড়া সমালোচনা করেছেন।

ভিক্টর ওরবান বিশ্বব্যাপী "MAGA" আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ভোটের ঠিক কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ওরবান জয়ী হলে হাঙ্গেরিকে আমেরিকার "পূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি" দিয়ে সহায়তা করা হবে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওরবানের শেষ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন, যাকে পিটার মাগিয়ার ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

সূত্র: টিআরটি উর্দু। 

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন