ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে জাতীয় সংসদে আরও ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে অধিবেশনে কোনো প্রকার সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াই কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলগুলো সরাসরি পাস হয়। সংসদের বিশেষ কমিটি এসব বিল হুবহু অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছিল। আজকের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন বিলটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, যেখানে ‘গুম’ বা বাধ্যতামূলক নিখোঁজ করাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধিবেশনের শুরুতেই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই আইনি সংস্কার সেই সদিচ্ছারই প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, গুমের বিচার নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নের অবসান ঘটাতেই আইনের সংজ্ঞায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কয়েকটি বিলও আজকের অধিবেশনে পাস হয়, যার অধিকাংশ ছিল নাম পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কার সংশ্লিষ্ট। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ সংসদে পাস করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তাও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে। আজকের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলো সেই সুপারিশকৃত তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে কোনো দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপনের পর সরাসরি কণ্ঠভোটে সেগুলো আইনে পরিণত হয়। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ