সৌদির পর এবার বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা

সৌদির পর এবার বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো এনার্জিস তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর 'ফোর্স মজিউর' (অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে। সোমবার ভোরে বাহরাইনের একমাত্র এবং বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত এই শোধনাগারটির একটি ইউনিটে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যার ফলে এর স্বাভাবিক রপ্তানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

বাপকো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং শোধনাগারে সরাসরি হামলার কারণে তারা তাদের অনেকগুলো চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আশ্বস্ত করেছে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের কাছে পর্যাপ্ত বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদায় কোনো ঘাটতি হবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর শোধনাগারের দিক থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় সিত্রা এলাকায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও আহতের খবর পাওয়া গেলেও শোধনাগারের ভেতরে কোনো প্রাণহানির তথ্য মেলেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের দশম দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধের শুরুর তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

বাহরাইনের আগে কাতার এবং কুয়েতও তাদের জ্বালানি রপ্তানিতে একই ধরনের 'ফোর্স মজিউর' ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলছে।

এর অগে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলের খনি শায়েবাহ অয়েলফিল্ডকে লক্ষ্য করে ফের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ ভোরের দিকে সৌদির শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছোড়ে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রুব আল-খালি মরুভূমির ওপর দিয়ে শায়েবাহ তেলখনির দিকে ধেয়ে আসা ড্রোনগুলো আকাশেই শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তেলখনিতে আঘাত হানার আগেই সৌদি আরবের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সফলভাবে এই হামলা প্রতিহত করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন