পুলিশের নতুন পোশাকে অনাগ্রহ ৯৯ শতাংশের, ফিরতে চান পুরোনো ঐতিহ্যে

পুলিশের নতুন পোশাকে অনাগ্রহ ৯৯ শতাংশের, ফিরতে চান পুরোনো ঐতিহ্যে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রবর্তিত পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে খোদ বাহিনীর ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—বাহিনীর মাত্র ০.৮৪ শতাংশ সদস্য বর্তমান নতুন পোশাকটি পরতে আগ্রহী। বিপরীতে, ৯৬.৫৭ শতাংশ সদস্যই তাদের পুরোনো সেই চেনা পোশাকে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

গত শনিবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে দেশের ৬৪ জেলার এসপি ও সকল ইউনিট প্রধানের কাছে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে সদস্যদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। সোমবার জমা পড়া সেই মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান: ৯৬.৫৭% সদস্য।

  • একেবারে নতুন পোশাক চান: ২.৫৯% সদস্য।

  • বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট: মাত্র ০.৮৪% সদস্য।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে এই পোশাক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আপত্তির প্রধান কারণগুলো হলো: ১. দৃশ্যমানতার অভাব: ‘লৌহ’ (Iron) রঙের এই পোশাকটি রাতে দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমান হয় না, যা সদস্যদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২. অন্য বাহিনীর সাথে সাদৃশ্য: নতুন ইউনিফর্মটি অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাকের সাথে মিলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৩. আবহাওয়ার অনুপযোগিতা: দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য এই কাপড়ের মান ও রং মোটেও আরামদায়ক নয় বলে ল্যাব টেস্টে (GSM ও Wicking Capacity) প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পোশাকের কাপড় কেনার কাজ পেয়েছিল নোমান গ্রুপ, যার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের সংস্কার যেখানে সময়ের দাবি, সেখানে পোশাক পরিবর্তনের নামে এই বিপুল অর্থ ব্যয় আদতে 'অর্থের অপচয়' ছাড়া আর কিছুই নয়।


২০০৪ সালে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে প্রবর্তিত আগের পোশাকটিকে পুলিশ সদস্যরা তাদের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক বলে মনে করেন। তাই বাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করতে দ্রুত আগের পোশাকে ফেরার দাবি জোরালো হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সদস্যদের এই গণমতামত খুব শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এন.এ/সকালবেলা


মন্তব্য করুন