যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন: তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা, সাগরে মার্কিন-ইরান রণতরীর লড়াই

যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন: তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা, সাগরে মার্কিন-ইরান রণতরীর লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত ষষ্ঠ দিনে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের রাজধানী তেহরান লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে সমুদ্রপথেও বাড়ছে উত্তেজনা; লঙ্কার জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিন হামলার পর সেখানে দ্বিতীয় ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি দেখা গেছে।

তেহরানে বিস্ফোরণ ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তেহরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার শব্দ জেরুজালেম পর্যন্ত পৌঁছায়। এছাড়া আজারবাইজানের বিচ্ছিন্ন অঞ্চল নাখচিভানের একটি বিমানবন্দর ও স্কুলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সাগরে লঙ্কাকাণ্ড ও ইরানের হুমকি বুধবার লঙ্কার জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিন হামলার পর বৃহস্পতিবার সেখানে আরেকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র নৃসংস কাজ করেছে, এর জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে”। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে আইআরজিসি (IRGC) ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে।

ইউরোপের রণপ্রস্তুতি সংঘাতের আঁচ সাইপ্রাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় স্পেন তাদের সবচেয়ে উন্নত ফ্রিগেট ‘ক্রিস্তোবাল কোলোন’ ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান মোতায়েন করেছে।

নিহত ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় হামাস কর্মকর্তা ওয়াসিম আতাল্লাহ ও তাঁর স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন