ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জুয়েল রানা, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল মোড় এলাকায় গড়ে ওঠা কয়েকটি আবাসিক হোটেল এখন কার্যত অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদকের কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রছায়ায় পবিত্র রমজান মাসেও দিনদুপুরে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাটিকুমরুল এলাকায় অবস্থিত ময়নামতি, নিরিবিলি, দোয়েল ও নিউ মারসিটি নামক আবাসিক হোটেলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা একই পরিবারের তিন ভাই—জেলহক, জাহাঙ্গীর ও বাবু। তাদের সহযোগিতায় একটি বিশাল সিন্ডিকেট এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। চক্রটি শুধু অসহায় নারীদেরই এই পথে বাধ্য করছে না, বরং স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান মাসেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব গর্হিত কাজ চলছে। নিয়মিত মাসোয়ারা লেনদেনের মাধ্যমেই তারা নির্বিঘ্নে এসব চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, এই হোটেলগুলোতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ জন নারীকে রাখা হয় এবং খদ্দেরদের পছন্দ অনুযায়ী ঘণ্টা বা রাত হিসেবে চুক্তি করা হয়। দেহ ব্যবসার পাশাপাশি হোটেলগুলোর ভেতরে নিয়মিত মাদক সেবন ও কেনাবেচাও চলছে। এর আগে একটি হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সলঙ্গা থানায় মামলা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন জাহাঙ্গীর হোসেন অকপটে স্বীকার করে বলেন, হোটেলে নারী না রাখলে ব্যবসা চলে না। তবে রমজানের কারণে বর্তমানে ব্যবসা কিছুটা কম চলছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ