ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা: ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলে গেছে। বসন্তের দখিনা বাতাসের ছোঁয়ায় মধুমাসের আগাম বার্তা নিয়ে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি জনপদে আমের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। চারদিকের প্রকৃতি এখন আমের মুকুলের মিষ্টি ও মোহময় ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে, যা পথচারীদের মনকে বিমোহিত করে তুলছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হিমসাগর, তিলেবোম্বাই, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও মল্লিকাসহ জনপ্রিয় সব জাতের আমের গাছে এখন হলুদ আভার সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে সূর্যের সোনালী আলোয় ঝলমল করছে এই মুকুলগুলো। ভালো ফলনের আশায় বাগান মালিক ও কৃষকরা এখন গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের আম চাষি আকবার আলী বলেন, "এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুলগুলো বেশ সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। অধিকাংশ গাছেই ভালো মুকুল এসেছে। এখন ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও সঠিক যত্নে সময় দিচ্ছি।" দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বাগান মালিক মিজানুর রহমান জানান, মুকুল আসার পর থেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে যত্ন নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের গুটি শক্ত হওয়া পর্যন্ত তারা বড় ধরনের লাভের আশা করছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিক বাগানের পাশাপাশি এখন মানুষের বাড়ির আঙিনায় ও ফসলি জমির আইলেও আম চাষ বাড়ছে। অনেক ক্ষুদ্র চাষি তাদের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে আম বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, এবার আবহাওয়া আমের জন্য মোটামুটি অনুকূলে ছিল। তিনি আরও বলেন, "আমের মুকুল যখন গুটি দানার মতো হয়, তখন নির্দিষ্ট ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। ভুল বা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সঠিক বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।"
এস.কে/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ