১৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের জোড়া হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। মার্কিন সামরিক শক্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বইয়ে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্য ক্রাইসিস, মার্কিন ঘাঁটি ট্র্যাকিং ও আইআরজিসি কমান্ড খতিয়ান’ এবং ‘গ্লোবাল ডিফেন্স স্ট্রাটেজি, হরমুজ প্রণালি ব্লকেড ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের বিবরণ তুলে ধরা হলো।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আজ ভোরে পৃথক জরুরি বিবৃতির মাধ্যমে এই সমন্বিত পাল্টা হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের মহাকাশ বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে দুই দফায় এই নিখুঁত অপারেশন পরিচালনা করে। হামলায় মূলত কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আলী আল-সালেম’ ও ‘আহমাদ আল-জাবের’ এবং বাহরাইনের ‘শেখ ইসা’ বিমানঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী ‘পঞ্চম নৌবহর’ (5th Fleet)-এর সদরদপ্তরের ওপর। ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের বিশেষ কমান্ডো উইং বিপুল সংখ্যক আত্মঘাতী ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে এই সদরদপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর বিখ্যাত ‘প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ (Patriot Air Defense System)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান যোগাযোগ অ্যান্টেনাসমূহ এবং অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থাকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু ও অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এই ভয়াবহ হামলার পর একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ খুব শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে। তার দাবি, ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এই হামলা বন্ধ করার জন্য তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ ‘যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মার্কিন বাহিনীর পালিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি। ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের এই তীব্র সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ‘আগ্রাসীর চূড়ান্ত শাস্তি’ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।
যুদ্ধের এই চরম মুহূর্তে পুরো বিশ্বকে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দিয়েছে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর। রণকৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) সব ধরনের আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে তারা। ইরানি সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “এই মুহূর্ত থেকে এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্য যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা নৌযান এই জলসীমায় প্রবেশ করলে সেটিকে শত্রুর যান হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু করা হবে।”
এদিকে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশসহ বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় বোমাবর্ষণ শুরু করার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং দুই দেশের এই সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
জান্নাত সকালবেলা
|