ভারতের রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক
বিনোদন ডেস্ক:টলিউড অঙ্গন ও ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহলে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় প্রথম সারির অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রাজ্যসভার সম্মানিত চেয়ারম্যানের কাছে অফিশিয়াল ইমেইল মারফত নিজের চূড়ান্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। ওপার বাংলার প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক শোবিজ, ভারতীয় চলচ্চিত্র ও গ্ল্যামার দুনিয়া খতিয়ান’ এবং ‘রাজনৈতিক সেলিব্রেটি, টলিউড গসিপ ও থিয়েটার উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কোয়েল মল্লিকের এই আকস্মিক পদত্যাগের আদ্যোপান্ত খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কলকাতার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই অপ্রত্যাশিত ও শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই দলটির সমর্থিত তারকা প্রার্থী ও সাংসদেরা চরম রাজনৈতিক বিপাকে পড়েছেন। কোয়েল মল্লিকের এই আকস্মিক পদত্যাগের আগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট ১৩ জন দলীয় সদস্য বা সাংসদ ছিলেন, যা কোয়েলের বিদায়ের পর এখন মাত্র ৯ জনে নেমে এসেছে। দিল্লির সংসদীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পরাজয়ের জেরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন তারকা সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনে কোয়েল মল্লিক সবসময়ই দলীয় বা সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে বেশ দূরে রাখতেন। ফলে চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে হঠাৎ তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়, তখন টলিউডের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকরাও বেশ অবাক হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত এপ্রিল মাসে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার একজন সম্মানিত সাংসদ (MP) হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শপথ নেন এই অভিনেত্রী।
সে সময় নিজের নতুন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোয়েল গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “অনেক ভেবে-চিন্তে যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা কিন্তু নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব। দেশের সেবা করা, মানুষের সেবা করা—এর চেয়ে বড় ও মহৎ কাজ তো আর দুনিয়াতে হতে পারে না।”
তবে রাজনীতিতে আসার মাত্র ৪ মাসের মাথায় এবং দলের ভরাডুবির ঠিক পর পরই এভাবে তড়িঘড়ি করে পদত্যাগ করার কারণে কোয়েলের সেই ‘মহৎ’ উদ্দেশ্য ও দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে এখন খোদ ওপার বাংলার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, ক্ষমতার হাওয়া বদল হতেই দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন নায়িকা। তবে এই তীব্র সমালোচনা কিংবা নিজের আকস্মিক পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ‘পাগলু’ খ্যাত এই ওয়ান-টাইম পলিটিশিয়ান বা অভিনেত্রী এখনো গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানাননি।
জান্নাত সকালবেলা
|