দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হাম (Measles) এবং হামের সদৃশ মারাত্মক উপসর্গে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত দেশের কোনো না কোনো হাসপাতালে এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে নিভে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুদের জীবনপ্রদীপ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন তীব্র উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)-এর মহামারি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ৫ শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১০ জনে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চরমভাবে ভাবিয়ে তুলছে।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘দেশ ও জাতীয়’ এবং ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দেশের হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ ভয়াবহ পরিসংখ্যান ও হাসপাতালগুলোর চিত্র বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি (Laboratory Test) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর অন্তত ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি, ল্যাব পরীক্ষা ছাড়া কিন্তু শতভাগ হামের তীব্র উপসর্গ ও জটিলতা (যেমন- তীব্র নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া) নিয়ে মারা গেছে আরো ৫১৯টি শিশু। অর্থাৎ, দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৬১০-এর কোটা স্পর্শ করেছে।

ডিজিএইচএস-এর দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরো ১ হাজার ১৬৮ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নতুন রোগীর মধ্যে সরকারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৪৩ জনের শরীরে সরাসরি হামের ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি রোগীদের লক্ষণভিত্তিক আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র বিশেষায়িত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ (Infectious Diseases Hospital) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে মায়ের কোলে শিশুদের জ্বর ও গায়ে লালচে র‍্যাশ (Rash) নিয়ে কান্নার দৃশ্য নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, অনেক শিশু হামের জটিলতা হিসেবে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে, যার ফলে আইসিইউ (ICU) বা বিশেষায়িত সেবার প্রয়োজন পড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হামের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর (MR-Measles and Rubella) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। যেসব শিশু কোনো কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচী (EPI) থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যথায়, বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন