সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে কলকাতার কেন্দ্রস্থলে (ধর্মতলায়) এক ‘অনশন কর্মসূচি’ পালন করছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনশন মঞ্চ থেকেই তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের ওপর হামলা ও দল ভাঙার চেষ্টার তীব্র অভিযোগ তোলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনশন মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, “লড়ব, না হলে মরব। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত আমি থামব না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং এখন ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতা ও তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই সীমিত। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৫ জন এই অনশনে অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন সাংসদ। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের এমন কম উপস্থিতি দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও সম্ভাব্য বিভক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধর্মতলার এই কর্মসূচিতে উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব ও অসীমা পাত্র। আর সাংসদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে, সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা তৃণমূলের বর্তমান বিধায়কদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এবং মমতার ডাকা পূর্ববর্তী বৈঠকে অধিকাংশ বিধায়কের অনুপস্থিতি দলীয় চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন দলীয় ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতার এই অনশন একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিলেও, অন্যদিকে দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতাকেও প্রকাশ্য নিয়ে এসেছে।