দোয়া করছি, ফিল্ড মার্শাল সফল হবেন: বিলাওয়াল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ
দোয়া করছি, ফিল্ড মার্শাল সফল হবেন: বিলাওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিল্ড মার্শাল শান্তির জন্য যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা যেন সফল হয়, মহান আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনাই করি। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির প্রচেষ্টা সফল হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) গিলগিট-বালতিস্তানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানের চলমান সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, “ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরীহ শিশুদের শহীদ করা হয়েছে। এই যুদ্ধে শুধু ইরান নয়, বরং সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ যুদ্ধের এক চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের আর কোনো রাজনীতিবিদ নেই যিনি তাঁর মতো পুরো দেশ সফর করেছেন। তিনি গিলগিট-বালতিস্তানের প্রতিটি তহসিলে পৌঁছেছেন উল্লেখ করে বলেন, “গত নির্বাচনে যেখানে আনন্দের পরিবেশ ছিল, এবারের নির্বাচনে সেখানে এক শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।”

বিআইএসপি (বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম) নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে বিলাওয়াল বলেন, এটি দেশের একমাত্র কর্মসূচি যা প্রতিটি দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছায়। এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। দেশের সামরিক ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, “পারভেজ মোশাররফের আমলে বিদেশি শক্তির জন্য সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু আমাদের শাসনামলে তা হতে দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানকে পরমাণু বোমা দিয়েছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো আর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দিয়েছেন বেনজির ভুট্টো। আমরা চাই পাকিস্তান রক্ষণাত্মক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী হোক।”

বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটি কেমন অর্থনৈতিক নীতি যেখানে ধনীরা আরও ধনী আর গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে? এই বৈষম্য দূর করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ কেবল একটি দলই করতে পারে, আর তা হলো পিপলস পার্টি।”

ইসলামাবাদ থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতার সমালোচনা করে পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনারা আগে গিলগিট-বালতিস্তানের মানুষকে তাঁদের সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করুন। যেকোনো বড় প্রকল্পে স্থানীয়দের অংশীদারিত্ব দিতে হবে। সিন্ধু প্রদেশের থর কয়লা খনির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কয়লা উত্তোলনের পর প্রথম সুবিধা স্থানীয়দের দেওয়া হয়েছে। তাঁদের চাকরি ও বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। থর কয়লার সুবিধা আজ পুরো পাকিস্তান পাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, সিন্ধুর আবাসন প্রকল্পটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুনর্বাসন প্রকল্প। নেপালের রেকর্ড ভেঙে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সিন্ধুতে ২০ লাখ পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে, যা দুর্যোগেও টিকে থাকবে এবং এই বাড়িগুলোর মালিকানা দেওয়া হবে নারীদের নামে।

গিলগিট-বালতিস্তানের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিলাওয়াল বলেন, সত্তরের দশকে ভুট্টোর আমলের এক জরিপ অনুযায়ী এখান থেকে ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। অথচ এখানকার একজন ‘অধ্যাপক’ (রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ) অহংকার করে বলছেন যে, ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া নাকি তাঁর ডান হাতের কাজ! যদি তাই হয়, তবে তিনি এত বছর কেন তা করেননি? আমরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মাধ্যমে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করব।

আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, “আমার বিশ্বাস, আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে এখানকার জনগণ ‘তীর’ মার্কায় সিল দিয়ে পিপিপি-কে জয়যুক্ত করবেন। আমরা জয়ী হলে স্থানীয়দের মালিকানার অধিকার ফিরিয়ে দেব এবং গিলগিট-বালতিস্তানে হাসপাতালের জাল বিছিয়ে দেব, যেখানে মানুষ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাবে।”

সূত্র: এক্সপ্রেস নিউজ। 

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন