বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দার হালের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি সবসময়ই কোনো না কোনো কারণে লাইমলাইটে থাকেন। পর্দায় তাঁর অভিনীত সিনেমার চেয়েও অনেক বেশি তাকে ঘিরে মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে নেটদুনিয়ায়; যা পরদিনই দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান খবরের শিরোনামে চলে আসে। পরীমণি নিজেও ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা আপডেট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভীষণ রকমের সরব এবং পাশাপাশি শোবিজের বিভিন্ন জমকালো অ্যাওয়ার্ড শো ও অনুষ্ঠানে তাঁর নিয়মিত আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘গ্ল্যামার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্রনায়িকার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার ও শুটিং সেটের অজানা অভিজ্ঞতার বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি ঈদ-উল-আজহার বিশেষ একটি টিভি টকশো ও আড্ডামূলক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল মৌসুমী হামিদের চমৎকার উপস্থাপনায় সেই অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার, চড়াই-উতরাইয়ের অভিনয়জীবন ও পর্দার পেছনের নানা টক-মিষ্টি অভিজ্ঞতার কথা অকপটে তুলে ধরেন এই গ্ল্যামারাস নায়িকা। আলাপচারিতার একপর্যায়ে ঢাকাই সিনেমার গুণী পরিচালকদের প্রসঙ্গ উঠলে পরীমণি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে জানান যে, তাঁর পুরো অভিনয়জীবনে তিনি সবচেয়ে বেশি বকা খেয়েছেন দেশের প্রখ্যাত ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের কাছে।
তবে বকা খেলেও নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের কাজ করার স্বতন্ত্র ধরণ ও পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করে পরীমণি বলেন, “সেলিম ভাই শুধু একজন অসাধারণ মানের পরিচালকই নন, উনি মূলত একজন অভিনয়ের খাঁটি ওস্তাদ। ওনার কাছ থেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনেক কিছু শেখার আছে।”
পরীর বাস্তবসম্মত ভাষ্য অনুযায়ী, “শুটিং সেটে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মুখের অভিব্যক্তি বা রিঅ্যাকশন দেখে হুট করে বোঝার কোনো উপায় বা সাধ্য ছিল না যে— কোন দৃশ্যের অভিনয়ে তিনি মনে মনে সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর কোথায় তাঁর সমস্যা বা খটকা লেগেছে। সেটে ওনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সহজে বোঝা যেত না বলেই আমরা যারা সহশিল্পী ও পর্দার পেছনের কলাকুশলীরা ছিলাম, সবাই একটু বেশি বিচলিত ও তটস্থ থাকতাম। ফলে সেটে কাজ করার সময় সবার মধ্যেই এক ধরনের অদৃশ্য মানসিক চাপ বা পারফেকশনের তাগিদ কাজ করত।”
এই নায়িকা হাসতে হাসতে আরও জানান, অনেক সময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে খুব ভালো অভিনয় করার পরেও পরিচালকের মুখের গম্ভীর ভাব দেখে বুঝতে পারতেন না যে শটটি আদৌ ওকে হয়েছে কি না। কখন ওনার একটি দৃশ্য পছন্দ হয়েছে, আর কখন মনে ধরেনি— তা অনুমান করা জুনিয়র শিল্পীদের জন্য বেশ কঠিন ও জটিল ছিল। বিশেষ করে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় প্রশংসিত ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে করে পরীমণি বলেন, “ওই সিনেমার পুরো শুটিং পিরিয়ডে আমি সবসময় এক ধরনের চাপা ভয়ে ভয়ে থাকতাম। কখন যে ক্যামেরার সামনে ওনার মনের মতো শট না হয়ে বড় ভুল হয়ে যায়— সেই আতঙ্কে সেটের সবাই সারাক্ষণ সোজা হয়ে থাকত। এমনকি শুটিংয়ের পুরো প্যাকআপ হওয়া পর্যন্ত গিয়াসউদ্দিন সেলিম ভাই নিজেও এক অদ্ভুত টেনশনে ভুগতেন। আর পরিচালকের সেই গম্ভীর মুখের টেনশন ও একাগ্রতা দেখে আমি নিজেও কিছুটা প্যানিকড (Panicd) বা নার্ভাস হয়ে যেতাম।” তবে এই কড়া শাসনের মধ্য দিয়েই যে একজন প্রকৃত শিল্পীর জন্ম হয়, তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন পরীমণি।
জান্নাত সকালবেলা