সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ও জোরালো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দখলদার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার সেনাবাহিনীকে আরও সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সেনারা ওই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণেও নিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু ড্রোন ও রকেট হামলা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই অগ্রযাত্রা পুরোপুরি থামাতে পারছে না, এমনকি যুদ্ধের গতিপথও বদলে দিতে পারছে না। সামনেও হয়তো লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ ইসরাইলকে পুরোপুরি রুখতে পারবে না।
তবে হিজবুল্লাহ এই প্রতিরোধ যুদ্ধকে ইসরাইলের জন্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চড়া মূল্যের করে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে আজ সোমবার (১ জুন) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় একজন ইসরাইলি সৈনিকের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।
বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মাঠ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর বিপরীতে হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। হিজবুল্লাহর এই ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত শহরগুলোতে অবস্থান নেওয়া ইসরাইলি সেনা এবং উত্তর ইসরাইলের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল।
এই ড্রোন হামলায় ইতিমধ্যেই ইসরাইলি বাহিনীর বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ তাদের রকেট হামলাও জোরদার করেছে, যা এখন ইসরাইলের আরও গভীর অঞ্চলে গিয়ে আঘাত হানছে।
ঠিক এই মুহূর্তে ইসরাইলের মূল লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর ওপর সর্বোচ্চ সামরিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা হামলা বন্ধ করে এবং নিজেদের নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়। কিন্তু প্রতিরোধকামী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ইসরাইলের সেই দাবি ও শর্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অসম যুদ্ধে ইসরাইল সাময়িকভাবে অনেক কিছু অর্জন করতে পারে এবং লেবাননের বেশ কিছু ভূখণ্ডও হয়তো দখল করে নিতে পারবে। কিন্তু মোটাদাগে ইসরাইল এখানে সফল হতে পারবে না; কারণ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে তারা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এবং বিপুলসংখ্যক সেনা হারাতে পারে, যা এই মুহূর্তে ইসরাইলের জন্য চরম বিপর্যয়কর হতে পারে।
আর এইচ/ সকালবেলা